1. info@jonomoth.com : admi2017 : জনমত নিউজ
  2. jonomoth24@gmail.com : Jonomoth .com : Jonomoth News .com

চুনারুঘাটে গুলাগুলিতে র‌্যাব ও ডাকাতদলের ৫ সদস্য আহত : অস্ত্রসহ ৯ ডাকাত আটক

খন্দকার আলাউদ্দিন, চুনারুঘাট : চুনারুঘাট পৌর শহরে দুর্ধর্ষ ডাকাতির সময় র‌্যাবের কর্তৃক অস্ত্রসহ নয় ডাকাতকে আটক করা হয়েছে। এ সময় র‌্যাব ও ডাকাতদলের গুলাগুলিতে র‌্যাবের এএসআই মনিরুল ইসলাম ও কনষ্টেবল রিয়াদ আহমেদসহ ৩ ডাকাত সদস্য আহত হয়েছেন। গত সমবার দিবাগত রাত সাড়ে ৩টায় পৌর শহরের বাগবাড়ি গ্রামের সংলগ্ন পীরেরবাজার এলাকায় ঘটনাটি ঘটেছে। এসময় ডাকাতদের কাছ থেকে ১টি পিস্তল, ৩ রাউন্ড গুলি, একটি ম্যাগজিন, ১টি কাটার, ২টি রামদা ও ১টি দা উদ্ধার করা হয়। র‌্যাবের উপস্থিতি টের পেরে এক ডাকাত পালিয়ে যায়।
স্থানীয় ও পুলিশ সুত্র জানায়, ওইদিন রাত ৩টার দিকে পৌর শহরের পীরের বাজার এলাকার বাসিন্দা ও শাকির মোহাম্মদ উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক আব্দুল কদ্দুছ মাষ্টারের বাসায় ডাকাতদল হানা দেয়। এক পর্যায়ে ডাকাতরা ঘরের গেইটের তালা কেটে বেড রুমে প্রবেশ করার প্রস্তুতি নেয়। এসময় ঘরের গৃহকর্তা কুদ্দছ মাষ্টার বিষয়টি টের পেয়ে শুর চিৎকার শুরু করেন। তাদের চিৎকার শুনে মৌলভীবাজার থেকে ঢাকা যাওয়ার সময় ঢাকার যাত্রাবাড়ির র‌্যাব-১০ এর সদস্যরা গাড়ি নিয়ে বাসার সামন দিয়ে যাচ্ছিলেন। পরে পিছনে এসে বাসার ভেতরে ডাকাতদলের ডাকাতির ঘটনা দেখতে পান। ডাকাতদল গাড়ি দেখামাত্র র‌্যাব সদস্যদের লক্ষ করে কয়েক রাউন্ড গুলি ছুড়ে। এতে র‌্যাব-১০ এর এএসআই মনিরুল ইসলাম ও কনষ্টেবল রিয়াদ আহমেদ আহত হয়। এসময় র‌্যাব সদস্যরা পাল্টা ৭ রাউন্ড গুলি করলে ডাকাতদলের ৩ সদস্য আহত হয়। এদিকে গুলাগুলির শব্দ পেয়ে এলাকাবাসী ও চুনারুঘাট থানার মোবাইল টিম সদস্যরা ঘটনান্থলে যায়। এ সময় র‌্যাব সদস্যরা ৯ ডাকাতকে আটক করে আহত ৩ জনকে প্রথমে চুনারুঘাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ও পরে হবিগঞ্জ সদর আধুনিক হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়। এদিকে আন্তঃডাকাত দলের নেতা উপজেলার উবাহাটা গ্রামের আঃ শহিদ এর ছেলে আবু তালেব প্রকাশ লেংরা তালেব পালিয়ে যায়। অন্যান্য ৬ জনকে চুনারুঘাট থানায় এনে কয়েকদফা জিজ্ঞাসাবাদ করে। আটককৃতরা হলো উপজেলা শ্রীকুটা গ্রামের মোতালিব মিয়ার ছেলে মমিন মিয়া (১৯) মমিনপুর গ্রামের সানু মিয়ার ছেলে মোঃ সোহেল মিয়া (২০), রানীগাও গ্রামের গারবু মিয়ার ছেলে সাজন মিয়া (২০) মধ্য নরপতি গ্রামের আঃ শহিদ মিয়ার ছেলে হাবিবুর রহমান হৃদয় (১৯), মমিনপুর গ্রামের আইয়ূব আলীর ছেলে ফজল মিয়া (২০), নরপতি গ্রামের নোমান মিয়ার ছেলে আরমান মিয়া (১৮), কাচুয়া গ্রামের ইদ্রিছ আলী ছেলে ফজর আলী বটল (২৪), মমিনপুর গ্রামের মৃত সৈয়দ নবাব উল্লারর ছেলে সৈয়দ শিপন (২২) ও রানীগাও গ্রামের আঃ আউয়ালের ছেলে এনামুল হক (২৫)। এদের মধ্যে আরমান মিয়া, সৈয়দ সিপন ও এনামুল হককে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় সিলেট ওসমানি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরন করা হয়েছে। এদিকে বিকাল ৪ ঘটিকায় র‌্যাব-১০ এর ওয়ান্টে অফিসার হাবিবুর রহমান বাদী হয়ে চুনারুঘাট থানায় অস্ত্র আইনে একটি মামলা দায়ের করে তাদেরকে চুনারুঘাট থানায় সোপর্দ করেন। অপরদিকে গৃৃহকর্তা আব্দুল কদ্দুছ মাষ্টার বাদী হয়ে ডাকাতির চেষ্টার একটি মামলা দায়ের করেন। এবিষয়ে গৃৃহকর্তা আঃ কদ্দুছ মাষ্টার জানান, তিনি রাত ৩টার দিকে গেইটের শব্দ পেয়ে বাসা থেকে বের হয়ে আসার সাথে ডাকাতরা গেইট ভেঙ্গে তার বসতঘরে প্রবেশের চেষ্টা করে। এসময় তিনি চিৎকার শুরু করলে র‌্যাব সদস্যরা এসে তাদেরকে ঘিরে ফেলে। এক পর্যায়ে এলাকাবাসী এসে জড়ো হয়।
এবিষয়ে চুনারুঘাট থানার অফিসার ইনচার্জ কে এম আজমিরুজ্জামান জানান, আটক ৩ ডাকাতকে চিকিৎসার জন্য সিলেট মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে।

     এই ক্যাটাগরীর আরো খবর