1. info@jonomoth.com : admi2017 : জনমত নিউজ
  2. jonomoth24@gmail.com : Jonomoth .com : Jonomoth News .com

নুসরাত হত্যার ১৭ দিন : চার্জশিট আগামী সপ্তাহে

ফেনীর সোনাগাজীর মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফি হত্যামামলার চার্জশিট আগামী সপ্তাহে দেওয়া হতে পারে। পিবিআইয়ের বিশেষ পুলিশ সুপার (চট্টগ্রাম) মো. ইকবাল এমনটাই ইঙ্গিত দিয়েছেন। তিনি জানান, নুসরাত হত্যার ঘটনায় তাদের তদন্ত কার্যক্রম প্রায় শেষ পর্যায়ে। আগামী সপ্তাহের মধ্যে চার্জশিট দাখিল করার প্রস্তুতি নিয়ে এগুচ্ছে পিবিআই।

এদিকে, শুক্রবার নুসরাত হত্যায় গ্রেফতার আরেক আসামি মহিউদ্দিন শাকিল স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। তাকে গত বৃহস্পতিবার ফেনী শহরের পূর্ব উকিলপাড়া এলাকার মুন্সী পুকুরপাড় থেকে আটক করে পিবিআই। শাকিল সোনাগাজী উপজেলার উত্তর চরচান্দিয়া গ্রামের রুহুল আমিনের ছেলে।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ফেনীর পিবিআইয়ের পরিদর্শক মো. শাহ আলম বলেন, ঘটনার দিন মাদ্রাসার গেট পাহারায় থাকা মহিউদ্দিন শাকিলকে বিকালে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেওয়ার জন্য ফেনীর জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম ধ্রুব জ্যোতি পালের আদালতে পাঠানো হয়।

এ মামলায় এজাহারভুক্ত আট আসামিসহ এখন পর্যন্ত ২৩ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে কিলিং মিশনে অংশগ্রহণকারী পাঁচজন- শাহাদাত হোসেন শামীম, জাবেদ হোসেন, জোবায়ের আহমেদ, উম্মে সুলতানা পপি ও কামরুন নাহার মনি রয়েছে। এরাসহ মামলায় আটজন ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছে আদালতে।’

তদন্তকারী সংস্থা পিবিআইয়ের সূত্র জানায়, এ ঘটনায় প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে কমপক্ষে ২৫ জন জড়িত রয়েছে। চার্জশিটে এদের প্রত্যেকের নাম আসবে।

ফেনীর সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসার শিক্ষার্থী নুসরাত ছিলেন ওই মাদ্রাসার আলিম পরীক্ষার্থী। গত ৬ এপ্রিল আরবি প্রথম পত্র পরীক্ষা দিতে গেলে তার গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয় কয়েকজন।

এ ঘটনায় দগ্ধ নুসরাত ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১০ এপ্রিল মারা যান। মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সিরাজ-উদ-দৌলার বিরুদ্ধে নুসরাতের পরিবারের দায়ের করা মামলা তুলে না নেওয়ায় অধ্যক্ষর লোকজন তার গায় আগুন দেয় বলে পরিবারের অভিযোগ। এ ঘটনায় মামলায় অধ্যক্ষ ও মাদ্রাসা কমিটির সদস্যসহ আটজনের নাম উল্লেখপূর্বক অজ্ঞাত আরও কয়েকজনকে আসামি করে নুসরাতের ভাই মাহমুদুল হাসান নোমান ৮ এপ্রিল সোনাগাজী থানায় মামলা করেন।

সেই মাদ্রাসায় আর পড়তে চান না নুসরাতে ভাই
সোনাগাজী ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদ্রাসায় আর পড়তে চান না নুসরাত জাহান রাফির ছোট ভাই রাশেদুল হাসান রায়হান। বৃহস্পতিবার রাতে গণমাধ্যমকর্মীদের এ কথা জানান তিনি। রায়হান ওই মাদ্রাসার দশম শ্রেণির ছাত্র।

রায়হান বলেন, কীভাবে ওই মাদ্রাসায় পড়ব? কি জবাব দেব সহপাঠী ও শিক্ষকদের? কীভাবে ভুলবো আমার আপুর অসহ্য যন্ত্রণার কথা? আমি আর ওই মাদ্রাসায় পড়ব না। আমার বোনও মাকে বলেছিলেন, আলিম পাস করার পর ওই মাদ্রাসায় আর ভর্তি হবেন না। ফেনীর অন্য যে কোনো মাদ্রাসায় ফাজিলে ভর্তি হয়ে লেখাপড়ার কথা বলেছিলেন তিনি।

রায়হান আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সাক্ষাতের সময় তিনি বলেছিলেন দাখিল পরীক্ষার তার পড়ালেখার দায়িত্ব নেবেন তিনি। দাখিল পাস করে তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করে জানাবো তিনি সহযোগিতা করলে আমি উন্নত দেশে পড়ালেখা করতে চাই। আমার বোনের স্মৃতি যেন হারিয়ে না যায়। দেশবাসীর সহযোগিতায় আমার বোনের প্রতিবাদের এই দৃষ্টান্ত কখনো হেরে যেতে দেব না।

     এই ক্যাটাগরীর আরো খবর