1. info@jonomoth.com : admi2017 : জনমত নিউজ
  2. jonomoth24@gmail.com : Jonomoth .com : Jonomoth News .com

চুনারুঘাটে যুবতীর লোমহর্ষক হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন

পরকীয়ার জেরেই এ হত্যাকাণ্ড। পুলিশ উক্ত হত্যাকাণ্ডে কাওছার জড়িত থাকার বিষয়ে নিশ্চিত হয়ে তাকে গ্রেফতার করতে তৎপর হয়। এক পর্যায়ে মহিলা পুলিশ অফিসার কাওছারের সাথে প্রেমের অভিনয় শুরু করেন। প্রেমিক কাওছার তার প্রেমিকার (মহিলা পুলিশ) সাথে দেখা করতে আসলে সে পুলিশের জালে ধরা পড়ে। পরে পুলিশ হত্যার দায়ে স্বামী-স্ত্রীকে আটক করে।

রায়হান আহমেদ : হবিগঞ্জের চুনারুঘাটে যুবতীর লোমহর্ষক হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ।

আজ বুধবার বিকেলে হবিগঞ্জের পুলিশ সুপারের সভাকক্ষে এ উপলক্ষে প্রেস কনফারেন্স করেন- পুলিশ সুপার মোহাম্মদ উল্ল্যা বিপিএম, পিপিএম।

কনফারেন্স সূত্রে জানা যায়- গত ৭ফেব্রুয়ারি দুপুরে চুনারুঘাট থানার রাণীগাঁও ইউনিয়নের যোগীর আসন টিলায় অজ্ঞাতনামা যুবতীর রক্তাক্ত মৃতদেহ পাওয়া যায়। মামলা রুজু করে হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন করতে চুনারুঘাট থানা-পুলিশ নিবিড় তদন্তে নামে।

এরই প্রেক্ষিতে গত ০৮সেপ্টেম্বর-২০২০ তারিখে হবিগঞ্জ জেলার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ উল্ল্যা বিপিএম, পিপিএম এর নির্দেশনায় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আনোয়ার হোসেনের নেতৃত্বে চুনারুঘাট থানার অফিসার ইনচার্জ শেখ নাজমুল হক ও পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) চম্পক দাম সহ একদল পুলিশ গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বিশেষ অভিযান চালিয়ে উপজেলার রাণীগাঁও ইউনিয়নের পাচারগাঁও গ্রামের আব্দুল খালেকের ছেলে আফসার মিয়া ওরফে কাওছার (২৮) ও তার স্ত্রী রিপা বেগম (২৪)কে গ্রেফতার করেন।

পরে আসামীদ্বয়কে ব্যাপক ও নিবিড় জিজ্ঞাসাবাদে তারা ওই তরুণী হত্যাকাণ্ডের কথা স্বীকার করে ও ঘটনার লোমহর্ষক বর্ণনা দেয়।
আসামিরা জানায়- নিহত তরুণীর নাম রোকসানা আক্তার মিষ্টি(২২)। সে নোয়াখালী জেলার কামালপুর গ্রামের খোরশেদ আলী মজুমদারের মেয়ে। তবে রোকসানা আক্তার মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলের রূপশপুরে বসবাস করতো এবং সে মৌলভীবাজার শহরে একটি বেসরকারি কোম্পানীর বিক্রয় প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করতো।

আসামিরা আরো জানায়- মিষ্টি তার মায়ের সাথে রাগ করে মৌলভীবাজার শহরে জনৈক শুকলা ও মিষ্টি জনৈক চাঁদ মিয়ার দূর্গামহল্লাস্থ রিপার ভাড়া বাসায় ওঠে বসবাস করতো। ঐ বাসায় অপর আসামী রিপার স্বামী মোঃ আফসার মিয়া ওরফে কাওছারও থাকতো। কিছুদিন পর শুকলা সেখান থেকে অন্যত্র চলে যায়। এক বাসায় থাকার সুবাদে ভিকটিম মিষ্টির সাথে রিপার স্বামী কাওছারের পরকীয়ার সম্পর্ক গড়ে ওঠে।

এক পর্যায়ে তাদের মধ্যে অনৈতিক দৈহিক সম্পর্ক গড়ে ওঠে। এই নিয়ে স্বামী কাওছারের সাথে রিপার সম্পকের্র অবনতি ঘটে। প্রায়ই এ নিয়ে স্বামী মোঃ আফসার মিয়া রিপাকে মারধর করতো। ঘটনার আগের দিনও কাওছার তার স্ত্রী রিপাকে গালিগালাজ ও মারধর করলে রিপা হবিগঞ্জ সদরের ধুলিয়াখালে তার সৎ বাবার বাড়িতে চলে যায়। পরের দিন কাওছার তার স্ত্রী রিপাকে ফোন করে দুঃখ প্রকাশ ও অভিমান ভাঙ্গানোর চেষ্টা করলে রিপা বলে মিষ্টিকে মেরে ফেললে সে তার কাছে আসবে। ফলে মিষ্টিকে মেরে ফেলার পরিকল্পনা করে তারা।

এরই প্রেক্ষিতে মিষ্টিকে গত ৬ ফেব্রুয়ারি মৌলভীবাজার থেকে সাথে নিয়ে শায়েস্তাগঞ্জ নতুনব্রীজে আসে তারা। নতুনব্রীজের ফুটপাত সংলগ্ন জনৈক পান বিক্রেতার নিকট থেকে কৌশলে একটি ধারালো কেঁচি সংগ্রহ করে। মিষ্টিকে নিয়ে তারা তাদের নিজ বাড়ীতে রাত ১০টার দিকে পৌঁছায়। রাতের খাওয়া-দাওয়া শেষে পুনরায় মৌলভীবাজারের বাসায় যাওয়ার কথা বলে আসামীদ্বয় মিষ্টিকে ঘটনাস্থল যোগীর আসন টিলায় নিয়ে যায়।

প্রথমে মিষ্টিকে টিলার পাদদেশে ফেলে কাওছার ধর্ষণ করে। ধর্ষণ শেষে তার স্ত্রী রিপার সহায়তায় মিষ্টির পরিধেয় ওড়না দিয়ে তার গলায় পেচিয়ে তাকে হত্যা করে এবং মৃত্যু নিশ্চিত করতে কাওছার ওই কেঁচি দ্বারা মিষ্টির থুতনীর নিচে গলায় সজোরে ঘাঁই মারে। এরপর মৃত্যু নিশ্চিত করে আসামীদ্বয় মিষ্টির পরিচয় গোপন রাখার জন্য তার পড়নের জিন্স প্যান্ট খুলে ফেলে। মিষ্টির মোবাইল ফোন ও ভ্যানিটি ব্যাগ নিয়ে যায় এবং মিষ্টির জুতাসহ অন্যান্য পরিধেয় বস্ত্র ঘটনাস্থলে ফেলে রেখে চলে যায়।

এছাড়াও হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত রক্তমাখা কেঁচি ঘটনাস্থলেই ফেলে যায়। পরে মিষ্টির ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটি তারা মৌলভীবাজার শহরে এক অজ্ঞাতনামা ব্যক্তির কাছে বিক্রি করে দেয়।

আজ বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) হবিগঞ্জ বিজ্ঞ আদালতে দোষ স্বীকার করে আসামী কাওছার ও রিপা স্বীকারোক্তি মূলক জবানবন্দি দিয়েছে।

প্রসঙ্গত- গত ০৭ফেব্রুয়ারি-২০২০ তারিখে উক্ত স্থানে চুনারুঘাট থানা-পুলিশ অজ্ঞাত যুবতীর লাশ উদ্ধার করে। পরে চুনারুঘাট সদর হাসপাতালের জনৈক নার্সের পালিত কন্যা সুমি আক্তারের নিখোঁজের সূত্র ধরে পুলিশ এ মামলার তদন্ত শুরু করে। পরে পুলিশ জানতে পারে পাচারগাঁও গ্রামের এক লোক তার পরিচয় গোপন করে কাওছার নামে হবিগঞ্জ সদর হাসপাতালে চিকিৎসা গ্রহণ করেছে। পরে পুলিশ জানতে পারে কাওছারের প্রকৃত নাম আফসার।

কাওছারের মা পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদের এক পর্যায়ে জানায়- ঘটনার দিন রাতে তার ছেলে কাওছার তার স্ত্রী ও জিন্স প্যান্ট পরিহিত একটি মেয়েসহ বেড়াতে এসেছিল।

পুলিশ উক্ত হত্যাকাণ্ডে কাওছার জড়িত থাকার বিষয়ে নিশ্চিত হয়ে তাকে গ্রেফতার করতে তৎপর হয়। এক পর্যায়ে মহিলা পুলিশ অফিসার কাওছারের সাথে প্রেমের অভিনয় শুরু করেন। প্রেমিক কাওছার তার প্রেমিকার (মহিলা পুলিশ) সাথে দেখা করতে আসলে সে পুলিশের জালে ধরা পড়ে।

     এই ক্যাটাগরীর আরো খবর