প্রিন্ট এর তারিখ : ২৭ আগস্ট ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ২৭ আগস্ট ২০২৬
রংপুরের ৪ খুনের ঘটনায় পুলিশ হেফাজতে সিদ্ধার্থ-মুগ্ধ
জনমত ডেস্ক ||
রংপুরে চাঞ্চল্যকর চার খুনের ঘটনায় গ্রেফতার হয়ে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়া সিদ্ধার্থ দাস ও মুগ্ধ দাসকে আরো জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ডে নেয়ার আবেদন করা হবে। এর মাধ্যমে জনমনে ওঠা বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর বেরিয়ে আসবে বলে মনে করছে তদন্ত সংস্থাগুলো।
বুধবার (২৬ আগস্ট) রিমান্ডে নেয়ার কারণ ব্যাখ্যা করে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও মহানগর গোয়েন্দা বিভাগের ওসি জিন্নাত আলী বলেন, জব্দ করা আলামতগুলোর ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য আদালতের অনুমতি নিয়ে সিআইডির ল্যাবে পাঠানো হবে। তবে তার আগে আসামিদের রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করতে চান তারা। এরপর আরো কিছু বিষয় নিশ্চিত হয়ে ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য আদালতে আবেদন করা হবে।
স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়ার পরও কেন আবার রিমান্ডে নেয়া হবে—এমন প্রশ্নের জবাবে তদন্ত কর্মকর্তা জিন্নাত আলী জানান, আরো জিজ্ঞাসাবাদের প্রয়োজনীয়তা তারা অনুভব করছেন। ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সাথে আলোচনা করে রিমান্ড চাওয়া হবে। কারণ আসামিদের অনেক বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন।
তিনি আরো জানান, আসামিদের রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদের পর জব্দ করা আলামতের ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য আদালতে আবেদন ও অনুমতি নিয়ে সেগুলো সিআইডির ল্যাবে পাঠানো হবে। এই উদ্যোগটি আগেই নেয়া উচিত ছিল বলে মনে করেন রংপুর মহানগর পুলিশের সাবেক কমিশনার মজিদ আলী।
তিনি বলেন, ঘটনাটি অত্যন্ত চাঞ্চল্যকর ও বড় ঘটনা। তাই স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দির পাশাপাশি রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তদন্ত আরো নির্ভুল হবে। এতে ঘটনায় দুইজনের জড়িত থাকার পক্ষে আরো প্রমাণ পাওয়া যাবে। একইসাথে জনমনে তৈরি হওয়া বিশ্বাসের ঘাটতি এবং দুইজনের বাইরে আরো কেউ জড়িত কি না—সেই সংশয়ও দূর হবে।
পুলিশের আরেকজন অবসরপ্রাপ্ত এসপি জানান, ঘটনায় কীভাবে দুইজন জড়িত—তা প্রমাণযোগ্যভাবে উপস্থাপন করা জরুরি। কীভাবে দুইজন চারজনকে হত্যা করল, সেটিও স্পষ্ট হওয়া দরকার। বিদ্যুতের লাইন কেন কাটা হয়েছিল, প্লাসটি কোথায়, ছাদে ইয়াবা সেবনের কোনো ডকুমেন্ট পাওয়া গেছে কি না—এসব বিষয়ও স্পষ্ট করা প্রয়োজন।
তিনি আরো বলেন, সীমান্তের বাড়িতে ইয়াবা সেবন করা হয়ে থাকলে সীমান্ত কেন সাক্ষী হবেন, আসামি হবেন না—পুলিশকে সেটিও যুক্তি দিয়ে ব্যাখ্যা করতে হবে।
ওই পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, জনমনে প্রশ্ন উঠেছে, কীভাবে ছয় ঘণ্টার মধ্যে ঘটনার মোটিভ উদঘাটন হলো। তবে এটি সম্ভব। কারণ অনেক সময় ঘটনা উদঘাটনে দীর্ঘ সময় লাগে, আবার কিছু ক্ষেত্রে বড় ঘটনার মোটিভ দুই ঘণ্টার মধ্যেও উদঘাটন হয়েছে। তদন্ত সংস্থাগুলোর উচিত একটু সময় নিয়ে সবকিছু পরিষ্কার করা।
তিনি বলেন, এত বড় একটি ঘটনা রংপুর মহানগর পুলিশ যেভাবে দ্রুততম সময়ে শনাক্ত করেছে, সে কারণে তারা সাধুবাদ পাওয়ার যোগ্য। এখন বিষয়টি শুধু গ্রহণযোগ্যভাবে আদালতে উপস্থাপন করা প্রয়োজন।
পুলিশের ওই কর্মকর্তা আরো জানান, তদন্তে কোনো ফুলস্টপ দেয়া উচিত নয়। সব সন্দেহের বৈজ্ঞানিক ও যৌক্তিক প্রমাণ নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
উল্লেখ্য, শুক্রবার (২১ আগস্ট) ভোরে রংপুর মহানগরীর মাছখোয়া পাড়ার তালাবদ্ধ নিজ বাড়িতে খুন হন রংপুর জিলা স্কুলের গণিতের শিক্ষক গণমতি চক্রবর্তী জুয়েল, তার স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী বোলা, কারমাইকেল কলেজ থেকে ইংরেজিতে সদ্য মাস্টার্স করা তাদের কন্যা আগামী চক্রবর্তী প্রার্থী এবং রংপুর জেলা স্কুলের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছেলে আয়ুষ চক্রবর্তী প্রিয়ম। শনিবার (২২ আগস্ট) রাত ১১টার পর তাদের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।
এ ঘটনায় সোমবার (২৩ আগস্ট) সিদ্ধার্থ দাস ও মুগ্ধ দাস নামে দুইজনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। সেদিন রাতেই তারা রংপুর মহানগর ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-২-এর বিচারক রফিকুল ইসলামের কাছে হত্যার কথা স্বীকার করে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন।
এছাড়াও মঙ্গলবার (১৫ আগস্ট) একই আদালতে স্বাক্ষী হিসেবে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন সিদ্ধার্থ ও মুগ্ধের বন্ধু সীমান্ত। সেই রাতে সীমান্তের ঘরে ইয়াবা সেবন করেছিল তারা।
এ ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে আন্দোলন সংগ্রাম করছেন রংপুরের বিভিন্ন সামাজিক সাংস্কৃতিক এবং শিক্ষার্থীরা।
সম্পাদক ও প্রকাশক : রায়হান আহমেদ
কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত জনমত