জনমত

সারাদেশ

হুমকির মুখে পরিবেশ

সাতছড়ি ও রামগঙ্গায় পর্যটকদের অনিয়ন্ত্রিত বর্জ্য নিক্ষেপ

সাতছড়ি ও রামগঙ্গায় পর্যটকদের অনিয়ন্ত্রিত বর্জ্য নিক্ষেপ

হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলার অন্যতম শীর্ষ প্রাকৃতিক ও নান্দনিক পর্যটন কেন্দ্র সাতছড়ি জাতীয় উদ্যান এবং তৎসংলগ্ন রামগঙ্গা এলাকা এখন অনিয়ন্ত্রিত প্লাস্টিক বর্জ্য ও প্লাস্টিক পণ্যের ভাগাড়ে পরিণত হতে চলেছে। প্রকৃতির অপার সৌন্দর্যে ঘেরা এই বনাঞ্চলে প্রতিদিন দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ ছুটে এলেও কিছু অসচেতন পর্যটকের বেপরোয়া আচরণের কারণে ধ্বংসের মুখে পড়ছে স্থানীয় জীববৈচিত্র্য ও প্রাকৃতিক ভারসাম্য।

বিশেষ করে প্রতি সপ্তাহে বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার দর্শনার্থী, বনভোজনকারী (পিকনিক) ও আড্ডাবাজদের উপচে পড়া ভিড় দেখা যায়। সমাগম বাড়ার সাথে সাথে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে যেখানে-সেখানে প্লাস্টিকের বোতল, চিপসের প্যাকেট, ওয়ান-টাইম প্লেট, গ্লাস ও উচ্ছিষ্ট খাবারের স্তূপ। নির্দিষ্ট স্থান বা ডাস্টবিন থাকা সত্ত্বেও একশ্রেণীর দর্শনার্থী বনের গাছপালা ও চা বাগানের ভেতরেই এসব পচনশীল ও অপচনশীল বর্জ্য ফেলে চলে যাচ্ছেন।

পরিবেশবিদদের মতে, বনের ভেতরের এই প্লাস্টিক বর্জ্য ও পরিত্যক্ত খাবারের প্লেট বনের সৌন্দর্য ক্ষুণ্ণ করার পাশাপাশি মাটির গুণাগুণ নষ্ট করছে। একইসাথে বন্যপ্রাণী এসব প্লাস্টিক বা খাবারের বর্জ্য মুখে দিয়ে মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়ছে, যা চুনারুঘাটের পরিবেশের জন্য অত্যন্ত সংবেদনশীল ও ভয়াবহ বার্তা বহন করে।

স্থানটি পরিদর্শনে আসা সচেতন কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, "আমাদের দেশ, আমাদের সমাজ এবং এই অনন্য সুন্দর বন রক্ষা করা আমাদেরই দায়িত্ব। প্রাকৃতিক স্থানগুলোতে এসে উন্মুক্তভাবে ময়লা ফেলার এই মানসিকতা অত্যন্ত দুঃখজনক। প্রশাসনের নজরদারির পাশাপাশি পর্যটকদের নিজেদেরও সচেতন হতে হবে।"

পরিবেশ রক্ষায় অবিলম্বে পর্যটন কেন্দ্রটিতে সুনির্দিষ্ট বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, যেখানে-সেখানে ময়লা ফেলার জন্য জরিমানা নির্ধারণ এবং কঠোর নজরদারি বাড়ানোর জোর দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল। সেই সাথে প্রকৃতিপ্রেমী ও পর্যটকদের প্রতি আহ্বান জানানো হচ্ছে, পরিবেশ নষ্ট করা থেকে সবাই বিরত থাকুন এবং সাতছড়ি-রামগঙ্গার অমূল্য সৌন্দর্য রক্ষায় দায়বদ্ধতার পরিচয় দিন।

0.0%
0.0%
0.0%
0.0%

মতামত

জনমত

রোববার, ০৯ আগস্ট ২০২৬


সাতছড়ি ও রামগঙ্গায় পর্যটকদের অনিয়ন্ত্রিত বর্জ্য নিক্ষেপ

প্রকাশের তারিখ : ০৮ আগস্ট ২০২৬

featured Image

হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলার অন্যতম শীর্ষ প্রাকৃতিক ও নান্দনিক পর্যটন কেন্দ্র সাতছড়ি জাতীয় উদ্যান এবং তৎসংলগ্ন রামগঙ্গা এলাকা এখন অনিয়ন্ত্রিত প্লাস্টিক বর্জ্য ও প্লাস্টিক পণ্যের ভাগাড়ে পরিণত হতে চলেছে। প্রকৃতির অপার সৌন্দর্যে ঘেরা এই বনাঞ্চলে প্রতিদিন দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ ছুটে এলেও কিছু অসচেতন পর্যটকের বেপরোয়া আচরণের কারণে ধ্বংসের মুখে পড়ছে স্থানীয় জীববৈচিত্র্য ও প্রাকৃতিক ভারসাম্য।


বিশেষ করে প্রতি সপ্তাহে বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার দর্শনার্থী, বনভোজনকারী (পিকনিক) ও আড্ডাবাজদের উপচে পড়া ভিড় দেখা যায়। সমাগম বাড়ার সাথে সাথে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে যেখানে-সেখানে প্লাস্টিকের বোতল, চিপসের প্যাকেট, ওয়ান-টাইম প্লেট, গ্লাস ও উচ্ছিষ্ট খাবারের স্তূপ। নির্দিষ্ট স্থান বা ডাস্টবিন থাকা সত্ত্বেও একশ্রেণীর দর্শনার্থী বনের গাছপালা ও চা বাগানের ভেতরেই এসব পচনশীল ও অপচনশীল বর্জ্য ফেলে চলে যাচ্ছেন।


পরিবেশবিদদের মতে, বনের ভেতরের এই প্লাস্টিক বর্জ্য ও পরিত্যক্ত খাবারের প্লেট বনের সৌন্দর্য ক্ষুণ্ণ করার পাশাপাশি মাটির গুণাগুণ নষ্ট করছে। একইসাথে বন্যপ্রাণী এসব প্লাস্টিক বা খাবারের বর্জ্য মুখে দিয়ে মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়ছে, যা চুনারুঘাটের পরিবেশের জন্য অত্যন্ত সংবেদনশীল ও ভয়াবহ বার্তা বহন করে।


স্থানটি পরিদর্শনে আসা সচেতন কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, "আমাদের দেশ, আমাদের সমাজ এবং এই অনন্য সুন্দর বন রক্ষা করা আমাদেরই দায়িত্ব। প্রাকৃতিক স্থানগুলোতে এসে উন্মুক্তভাবে ময়লা ফেলার এই মানসিকতা অত্যন্ত দুঃখজনক। প্রশাসনের নজরদারির পাশাপাশি পর্যটকদের নিজেদেরও সচেতন হতে হবে।"


পরিবেশ রক্ষায় অবিলম্বে পর্যটন কেন্দ্রটিতে সুনির্দিষ্ট বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, যেখানে-সেখানে ময়লা ফেলার জন্য জরিমানা নির্ধারণ এবং কঠোর নজরদারি বাড়ানোর জোর দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল। সেই সাথে প্রকৃতিপ্রেমী ও পর্যটকদের প্রতি আহ্বান জানানো হচ্ছে, পরিবেশ নষ্ট করা থেকে সবাই বিরত থাকুন এবং সাতছড়ি-রামগঙ্গার অমূল্য সৌন্দর্য রক্ষায় দায়বদ্ধতার পরিচয় দিন।


জনমত

সম্পাদক ও প্রকাশক: রায়হান আহমেদ
কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত জনমত
সাতছড়ি ও রামগঙ্গায় পর্যটকদের অনিয়ন্ত্রিত বর্জ্য নিক্ষেপ
0:00 0:00
1.0x