মুরগির বিষ্ঠা নিয়ে বিরোধ, উপজেলা জামায়াত আমির-সেক্রেটারিসহ ৩ জন কারাগারে
ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়ায় মুরগির বিষ্ঠা নিয়ে বিরোধের জেরে দায়ের করা দ্রুত বিচার আইনের মামলায় উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির ও সেক্রেটারিসহ তিন নেতাকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত।রোববার ময়মনসিংহ জেলা জজ আদালতে মামলার ধার্য তারিখে হাজির হয়ে আসামিরা জামিন আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত তাঁদের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।কারাগারে যাওয়া তিন আসামি হলেন—ফুলবাড়িয়া উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির মাওলানা ফজলুল হক শামীম, উপজেলা সেক্রেটারি ডা. মো. আব্দুর রাজ্জাক এবং উপজেলা জামায়াতের কর্মপরিষদ সদস্য, শিক্ষক ফেডারেশনের সভাপতি ও আলহেরা একাডেমি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল মজিদ।আদালত পরিদর্শক মোস্তাছিনুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, দ্রুত বিচার আইনের মামলায় হাজিরা দিতে এলে আদালত তিন আসামির জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে তাঁদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।মামলার নথি ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ফুলবাড়িয়ার কাহালগাঁও এলাকায় মুরগির বিষ্ঠা নিয়ে বিরোধের জেরে সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজির অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনায় আব্দুল কাইয়ুম তালুকদার বাদী হয়ে দ্রুত বিচার আইনে মামলা করেন। মামলায় স্থানীয় সংসদ সদস্য (ময়মনসিংহ-৬) কামরুল হাসান মিলনের ভাইসহ একাধিক ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে।মামলার ধার্য তারিখে আদালতে উপস্থিত না হওয়ায় সংসদ সদস্যের ভাইসহ কয়েকজন আসামির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত।এদিকে মুরগির বিষ্ঠা নিয়ে বিরোধের মামলায় উপজেলা জামায়াতের শীর্ষ তিন নেতাকে কারাগারে পাঠানোর ঘটনায় ফুলবাড়িয়ার রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের অনেকে ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত ও দ্রুত বিচার দাবি করেছেন।
স্বৈরাচারী কায়দায় যে-ই আসার চেষ্টা করবে, প্রতিহত করবে জনগণ : সমাজকল্যাণমন্ত্রী
পলাতক স্বৈরাচার ভারতে আশ্রয় নিয়ে উসকানিমূলক বক্তব্য দিচ্ছেন। কারও কারও সরকার বলছে, তাতে তাদের কোনো সহযোগিতা নেই। স্বৈরাচারী কায়দায় যে-ই আসার চেষ্টা করবে বা উসকানি দেবে, তাকে প্রতিহত করা সাধারণ মানুষের দায়িত্ব। এই ধরনের উসকানিমূলক কার্যক্রম যদি কেউ করে, সেটিকে প্রতিহত করার জন্য সরকার ও জনগণ প্রস্তুত আছে বলে মন্তব্য করেছেন সমাজকল্যাণমন্ত্রী এ জেড এম জাহিদ হোসেন। আজ রোববার বেলা ৩টায় হিলি স্থলবন্দরের প্রায় সাড়ে ৩৩ কোটি টাকা ব্যয়ে ফোর লেন সড়কের কাজের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য এ কথা বলেন মন্ত্রী জাহিদ হোসেন। সমাজকল্যাণমন্ত্রী আরও বলেন, বন্দর এলাকার বাণিজ্য প্রসারে সরকার নানা উদ্যোগ নিয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে ভোগান্তিতে থাকা রাস্তার কাজ শেষ হলে বন্দরের আমদানি-বাণিজ্য বাড়বে। হিলি রেলওয়ে স্টেশনের কার্যক্রম আরও বাড়ানো হবে, যাতে এখান থেকে মালামাল ওঠানামা থেকে শুরু করে সবকিছু সুন্দরভাবে করা যায়। সবকিছু জাতীয় স্বার্থকে প্রাধান্য দিয়েই করা হবে। এ সময় দিনাজপুরের জেলা প্রশাসক রফিকুল ইসলাম, দিনাজপুর সড়ক ও জনপথের প্রধান নির্বাহী প্রকৌশলী আসাদুজ্জামান, হাকিমপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জর্জ মিত্র চাকমা, হাকিমপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি ফেরদৌস রহমান, সাধারণ সম্পাদক সাখাওয়াত হোসেন শিল্পীসহ আরও অনেকে উপস্থিত ছিলেন। উল্লেখ্য, ২০২২ সালের ডিসেম্বর মাসে সাড়ে ৩৩ কোটি টাকা ব্যয়ে হিলি স্থলবন্দরের সোয়া দুই কিলোমিটার ফোর লেন সড়কের কাজ শুরু হলেও ভূমি অধিগ্রহণ জটিলতায় তা দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ ছিল। বর্তমান সরকারের আমলে জটিলতা কাটিয়ে আজ থেকে কাজ শুরু হয়।
হুমকির মুখে পরিবেশ / সাতছড়ি ও রামগঙ্গায় পর্যটকদের অনিয়ন্ত্রিত বর্জ্য নিক্ষেপ
হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলার অন্যতম শীর্ষ প্রাকৃতিক ও নান্দনিক পর্যটন কেন্দ্র সাতছড়ি জাতীয় উদ্যান এবং তৎসংলগ্ন রামগঙ্গা এলাকা এখন অনিয়ন্ত্রিত প্লাস্টিক বর্জ্য ও প্লাস্টিক পণ্যের ভাগাড়ে পরিণত হতে চলেছে। প্রকৃতির অপার সৌন্দর্যে ঘেরা এই বনাঞ্চলে প্রতিদিন দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ ছুটে এলেও কিছু অসচেতন পর্যটকের বেপরোয়া আচরণের কারণে ধ্বংসের মুখে পড়ছে স্থানীয় জীববৈচিত্র্য ও প্রাকৃতিক ভারসাম্য।বিশেষ করে প্রতি সপ্তাহে বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার দর্শনার্থী, বনভোজনকারী (পিকনিক) ও আড্ডাবাজদের উপচে পড়া ভিড় দেখা যায়। সমাগম বাড়ার সাথে সাথে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে যেখানে-সেখানে প্লাস্টিকের বোতল, চিপসের প্যাকেট, ওয়ান-টাইম প্লেট, গ্লাস ও উচ্ছিষ্ট খাবারের স্তূপ। নির্দিষ্ট স্থান বা ডাস্টবিন থাকা সত্ত্বেও একশ্রেণীর দর্শনার্থী বনের গাছপালা ও চা বাগানের ভেতরেই এসব পচনশীল ও অপচনশীল বর্জ্য ফেলে চলে যাচ্ছেন।পরিবেশবিদদের মতে, বনের ভেতরের এই প্লাস্টিক বর্জ্য ও পরিত্যক্ত খাবারের প্লেট বনের সৌন্দর্য ক্ষুণ্ণ করার পাশাপাশি মাটির গুণাগুণ নষ্ট করছে। একইসাথে বন্যপ্রাণী এসব প্লাস্টিক বা খাবারের বর্জ্য মুখে দিয়ে মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়ছে, যা চুনারুঘাটের পরিবেশের জন্য অত্যন্ত সংবেদনশীল ও ভয়াবহ বার্তা বহন করে।স্থানটি পরিদর্শনে আসা সচেতন কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, "আমাদের দেশ, আমাদের সমাজ এবং এই অনন্য সুন্দর বন রক্ষা করা আমাদেরই দায়িত্ব। প্রাকৃতিক স্থানগুলোতে এসে উন্মুক্তভাবে ময়লা ফেলার এই মানসিকতা অত্যন্ত দুঃখজনক। প্রশাসনের নজরদারির পাশাপাশি পর্যটকদের নিজেদেরও সচেতন হতে হবে।"পরিবেশ রক্ষায় অবিলম্বে পর্যটন কেন্দ্রটিতে সুনির্দিষ্ট বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, যেখানে-সেখানে ময়লা ফেলার জন্য জরিমানা নির্ধারণ এবং কঠোর নজরদারি বাড়ানোর জোর দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল। সেই সাথে প্রকৃতিপ্রেমী ও পর্যটকদের প্রতি আহ্বান জানানো হচ্ছে, পরিবেশ নষ্ট করা থেকে সবাই বিরত থাকুন এবং সাতছড়ি-রামগঙ্গার অমূল্য সৌন্দর্য রক্ষায় দায়বদ্ধতার পরিচয় দিন।
প্রতিদিনের বাংলাদেশ