জনমত ২৪
সর্বশেষ

হবিগঞ্জ ৫৫ বিজিবির মাদকবিরোধী অভিযান / ৫ লক্ষাধিক মূল্যের ভারতীয় ইয়াবাসহ আটক ১

হবিগঞ্জে মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযান চালিয়ে ১ হাজার ৭১০ পিস ভারতীয় ইয়াবাসহ মো. আব্দুর রহমান (৪৫) নামে এক ব্যক্তিকে আটক করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। এ সময় তার কাছ থেকে একটি বাইসাইকেলও জব্দ করা হয়। জব্দ করা ইয়াবার আনুমানিক মূল্য ৫ লাখ ১৮ হাজার টাকা বলে জানিয়েছে বিজিবি।বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে হবিগঞ্জ ব্যাটালিয়ন (৫৫ বিজিবি) এর সিন্দুরখান বিওপির দায়িত্বপূর্ণ এলাকার ইসলামপুরে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।বিজিবি সূত্র জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সিন্দুরখান বিওপির একটি টহলদল ইসলামপুর এলাকায় মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযান চালায়। এ সময় সন্দেহভাজন এক ব্যক্তিকে আটক করে তল্লাশি করা হলে তার কাছ থেকে ১ হাজার ৭১০ পিস ভারতীয় ইয়াবা ও একটি বাইসাইকেল উদ্ধার করা হয়।আটক মো. আব্দুর রহমান মৌলভীবাজার জেলার শ্রীমঙ্গল থানার কুঞ্জবন গ্রামের বাসিন্দা। তার বাবার নাম মৃত কচির উল্লাহ।বিজিবি জানিয়েছে, সীমান্ত সুরক্ষার পাশাপাশি মাদক ও চোরাচালান প্রতিরোধে নিয়মিতভাবে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। মাদক পাচারের সঙ্গে জড়িত চক্রকে শনাক্ত ও আটক করতে বিজিবির গোয়েন্দা তৎপরতাও অব্যাহত রয়েছে। হবিগঞ্জ ৫৫ বিজিবি ব্যাটালিয়ানের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল তানজিলুর রহমান বলেন, দেশের যুবসমাজকে মাদকের ভয়াল গ্রাস থেকে রক্ষা এবং সীমান্ত এলাকায় চোরাচালান প্রতিরোধে এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে। একই সঙ্গে মাদক ও চোরাচালানমুক্ত সমাজ গঠনে স্থানীয় জনগণসহ সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতা প্রয়োজন।

ধাওয়া খেয়ে ৫ জন ঝাঁপ দিলেন নদীতে, নিখোঁজ ১

গাজীপুর মহানগরীর কাউলতিয়ায় একদল যুবকের ধাওয়া খেয়ে তুরাগ নদীতে ঝাঁপ দিয়ে মোয়াজ্জেম হোসেন (৪৫) নামের ১ ব্যক্তি নিখোঁজ হয়েছেন। এ সময় তাঁর সঙ্গে থাকা আরও ৪ জন তীরে উঠতে সক্ষম হয়েছেন। গতকাল বুধবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে কাউলতিয়া কারখানা বাজারের দক্ষিণ পাশে এ ঘটনা ঘটে। নিখোঁজ মোয়াজ্জেম হোসেন খালিশা বার্তা এলাকার মোহাম্মদ আলী মেম্বারের ছেলে। মোয়াজ্জেমের চাচাতো ভাই দেলোয়ার হোসেন বলেন, মোয়াজ্জেমসহ ৫ জন তুরাগ নদীতে একটি ট্রলারের ওপর বসেছিলেন। এ সময় ৫-৬ জন যুবক সেখানে গিয়ে তাঁদের ট্রলার থেকে নেমে আসতে বলেন। নেমে না এলে গুলি করার হুমকি দেওয়া হয়। একপর্যায়ে ভয়ে ৫ জনই ট্রলার থেকে নদীতে ঝাঁপ দেন। পরে ৪ জন তীরে উঠতে পারলেও মোয়াজ্জেম নিখোঁজ হন। খবর পেয়ে স্থানীয়রা নদীতে উদ্ধার অভিযান চালান। তাঁর সন্ধান না পেয়ে ফায়ার সার্ভিসে খবর দেওয়া হয়। পরে গাজীপুর ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। গাজীপুর সদর মেট্রো থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, নদীতে ঝাঁপ দিয়ে একজন নিখোঁজ থাকার খবর পাওয়া গেছে। ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

ধাওয়া খেয়ে ৫ জন ঝাঁপ দিলেন নদীতে, নিখোঁজ ১

কুমিল্লায় গ্যাসের জন্য মহাসড়কে পণ্যবোঝাই গাড়ির দীর্ঘ লাইন, বন্ধ আঞ্চলিক গণপরিবহন

কুমিল্লার মহাসড়কসংলগ্ন সিএনজি ফিলিং স্টেশনগুলোতে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ থাকায় শত শত পণ্যবোঝাই কাভার্ডভ্যান, ট্রাক, লরি ও আঞ্চলিক গণপরিবহন দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে আছে। আজ বৃহস্পতিবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত চৌদ্দগ্রাম থেকে কুমিল্লার পদুয়ার বাজার পর্যন্ত ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে। গ্যাস সংকটে ফেনী ও কুমিল্লার আঞ্চলিক সড়কের অধিকাংশ গণপরিবহনও প্রায় বন্ধ। গতকাল বুধবার দুপুরে গাজীপুর থেকে গার্মেন্টস পণ্যবোঝাই করে চট্টগ্রাম বন্দরের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হন কাভার্ডভ্যান চালক জয়নাল আবেদীন। রাতের বেলা কুমিল্লার অংশে প্রবেশ করলে তাঁর গাড়ির গ্যাস শেষ হয়ে যায়। গ্যাস নেওয়ার জন্য তিনি কুমিল্লার সদর দক্ষিণ উপজেলার এডভান্স সিএনজি ফিলিং স্টেশনে প্রবেশ করেন। আজ দুপুর গড়িয়ে গেলেও তিনি গ্যাস পাননি। জয়নাল আবেদীন বলেন, ‘বুধবার রাত ২টা থেকে গ্যাসের জন্য পাম্পে দাঁড়িয়ে আছি, আজও গ্যাস পাইনি।’ সময়মতো বন্দরে পণ্য পৌঁছাতে না পারলে শিপমেন্ট বাতিল হয়ে যেতে পারে বলেও তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন। সরেজমিনে দেখা যায়, মহাসড়কের দুই লেনের পাশে থাকা সিএনজি ফিলিং স্টেশনগুলোতে শত শত পণ্যবোঝাই কাভার্ডভ্যান, ট্রাক, লরি ও আঞ্চলিক গণপরিবহন গ্যাসের জন্য অপেক্ষা করছে। কোনো স্টেশনেই গ্যাস না পাওয়ায় গাড়ির লাইন আরও দীর্ঘ হচ্ছে। স্থানীয় সূত্র জানায়, গত শুক্রবার থেকে বুধবার দুপুর পর্যন্ত গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক থাকলেও কোনো আগাম ঘোষণা ছাড়াই বুধবার দুপুর থেকে আবারও গ্যাস সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। এতে হঠাৎ করেই গ্যাসচালিত পরিবহন সংকটে পড়ে। আজ দুপুরে সদর দক্ষিণ উপজেলার তাজ সিএনজি ফিলিং স্টেশনে গিয়ে পণ্যবোঝাই গাড়ির দীর্ঘ লাইন দেখা যায়। সেখানে আবদুল খালেক নামে এক লরি চালক বলেন, রাতে চট্টগ্রাম ইপিজেড থেকে পণ্য নিয়ে বিমানবন্দরের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হন তিনি। পথিমধ্যে গ্যাস শেষ হয়ে যাওয়ায় ওই স্টেশনে ঢুকলেও গ্যাস পাননি। আবদুল খালেক বলেন, ‘কখন গ্যাস পাব, তাও জানি না। সঠিক সময়ে মালামাল নিয়ে গন্তব্যে পৌঁছাতে পারব কিনা তাও জানি না।’ গ্যাস সংকটের প্রভাব পড়েছে আঞ্চলিক গণপরিবহনেও। ফেনী ও কুমিল্লার আঞ্চলিক সড়কের অধিকাংশ গণপরিবহন বন্ধ হয়ে যাওয়ায় দুই জেলার যাত্রীদের দুর্ভোগ বেড়েছে। বিশেষ করে অফিসগামী কর্মকর্তা, কলেজপড়ুয়া শিক্ষার্থী এবং চিকিৎসাসেবা নিতে যাওয়া রোগীদের ভোগান্তি বেশি হচ্ছে। চৌদ্দগ্রাম বাজারে গণপরিবহনের জন্য অপেক্ষারত ইকবাল হোসেন বলেন, ‘আমার নিকটাত্মীয় কুমিল্লার একটি হাসপাতালে ভর্তি। তাঁকে দেখতে যাওয়া জরুরী। তাঁর অবস্থা আশঙ্কাজনক। কিন্তু যাওয়ার মতো কোন গণপরিবহন পাচ্ছি না। গ্যাস সংকটের কারণে অধিকাংশ গাড়ি বন্ধ।’ চৌদ্দগ্রাম ট্রান্সপোর্ট নামে কাভার্ডভ্যানের মালিক ওবায়েদ পাটোয়ারী বলেন, গ্যাস সংকটের কারণে তাঁদের গাড়ির খরচ বেড়েছে। তিনি বলেন, ‘যে গাড়ি পণ্য নিয়ে ২৪ ঘন্টার মধ্যে গন্তব্যে পৌঁছাতে পারে, সে গাড়ি এখন তিনদিনেও গন্তব্যে পৌঁছাতে পারছে না। আমার বেশ কয়েকটি গাড়ির অধিকাংশই গ্যাসের জন্য বিভিন্ন স্টেশনে দাঁড়িয়ে আছে। ফেনী-কুমিল্লা সড়কে চলাচলকারী আঞ্চলিক পরিবহন যমুনা মালিক সমিতির সভাপতি খোরশেদ আলম বলেন, হঠাৎ গ্যাস সংকটে অধিকাংশ গণপরিবহন বন্ধ হয়ে পড়েছে। এতে গাড়ির সংকট তৈরি হয়েছে। গণপরিবহন সংকটে দুই জেলার মানুষের চরম ভোগান্তি হচ্ছে, বিশেষ করে রোগী ও কলেজ শিক্ষার্থীদের। খোরশেদ আলম সরকারের প্রতি দাবি জানিয়ে বলেন, ‘অন্তত গণপরিবহনগুলো সচল রাখার জন্য গ্যাস সরবরাহ যেন অব্যাহত রাখে।’ এ বিষয়ে বাখরাবাদ গ্যাস বিপণন বিভাগের মহাব্যবস্থাপক প্রকৌশলী মুর্তজা রহমান খানের সঙ্গে বার বার যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাঁকে পাওয়া যায়নি।

কুমিল্লায় গ্যাসের জন্য মহাসড়কে পণ্যবোঝাই গাড়ির দীর্ঘ লাইন, বন্ধ আঞ্চলিক গণপরিবহন
রক্তচাপ কেড়ে নিতে পারে দৃষ্টিশক্তি

রক্তচাপ কেড়ে নিতে পারে দৃষ্টিশক্তি

চোখের স্ট্রোকের জন্য কি হাইপারটেনশন দায়ী?চোখের চিকিৎসক ডা. সুমন মুখোপাধ্যায় বলেন, ‘হাইপারটেনশনের কারণে চোখের একাধিক ক্ষতি হতে পারে।’ উচ্চ রক্তচাপে চোখের রেটিনার শিরায় ব্লকেজ তৈরি হয়। এর ফলে রক্ত চলাচল ব্যাহত হয়। এই অবস্থাকে ‘সেন্টাল রেটিনাল ভেইন অকুলেশন’ বলা হয়। এটি শিরার পাশাপাশি ধমনীতেও হতে পারে বলে জানিয়েছেন ডা. মুখোপাধ্যায়। আসলে চলতি ভাষায় এই অবস্থাকেই চোখের স্ট্রোক বলা হয়।সিআরভিও-এ কি দৃষ্টিশক্তি হারাতে পারেন?সিআরভিও-এর একাধিক উপসর্গ রয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে কমন হলো- হঠাৎ করে একটা চোখের দৃষ্টি কমে যাওয়া। এছাড়া চোখে রক্তপাত হলে চোখের ভিতর কালো ঝুলের মতো অংশ দেখা যায়।‘সিআরভিও-এর চিকিৎসা হলো ইনজেকশন বা রেটিনাল লেজার’ বলেন ডা. মুখোপাধ্যায়। সিআরভিও হলে দৃষ্টিশক্তি কমে যাওয়া, ঝাপসা দৃষ্টি এবং দৃষ্টিশক্তি হারানোর মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে।হাইপারটেনসিভ রেটিনোপ্যাথি কতটা ক্ষতিকর?ডা. মুখোপাধ্যায়ের সংযোজন, ‘প্রেশার খুব বেশি থাকলে চোখের ভিতর যে অপটিক নার্ভ থাকে, তারও মারাত্মক ক্ষতি হতে পারে।’ এই অবস্থায় চোখে রক্তপাতও হতে পারে। একে চিকিৎসার ভাষায় হাইপারটেনসিভ রেটিনোপ্যাথি বলা হয়।হাইপারটেনসিভ রেটিনোপ্যাথি কি গর্ভবতীদেরও হয়?হাইপারটেনশনে ভয় রয়েছে অন্তঃসত্ত্বা নারীদেরও। অনেক সময় গর্ভাবস্থায় হবু মায়ের ব্লাড প্রেশার অত্যধিক বেড়ে যায়। যাকে বলে প্রেগন্যান্সি হাইপারটেনশন বা ‘একলাম্পসিয়া’। এই অবস্থা তৈরি হলে মস্তিষ্কে রক্তপাত হয়। এই পর্যায়ে পৌঁছনোর ঠিক আগে চোখের উপর প্রভাব পড়ে। দৃষ্টিশক্তি কমে আসে। এই লক্ষণ দেখে বোঝা যায় যে, ‘একলাম্পসিয়া’ খারাপ দিকে এগোচ্ছে ‘অস্ত্রোপচারের সময় প্রেশার কন্ট্রোলে রাখা দরকার কেন?এছাড়া অস্ত্রোপচারের সময় প্রেশার বারবার যাচাই করা দরকার। অনিয়ন্ত্রিত রক্তচাপ থাকা অবস্থায় অস্ত্রোপচার করলে চোখে রক্তপাত হতে পারে এবং চোখ নষ্ট হয়ে যেতে পারে।

প্রতিদিনের বাংলাদেশ

রোনো রাউটার / পুরোনো রাউটারকে বানিয়ে ফেলুন ওয়াই-ফাই এক্সটেন্ডার

রোনো রাউটারকে Access Point (AP) Mode এ চালিয়ে ইথারনেট কেবলের মাধ্যমে মূল রাউটারের সঙ্গে যুক্ত করুন। এতে নেটওয়ার্কের গতি ও স্থায়িত্ব বেশি থাকবে। এর জন্য রাউটার রিসেট করে, ফার্মওয়্যার আপডেট করে, LAN থেকে WAN-এ কেবল সংযোগ দিয়ে ওয়েব সেটিংসে গিয়ে AP মোড চালু করতে হবে। ২. রিপিটার মোডে তারহীন সংযোগ যদি তার টানার সুযোগ না থাকে, তাহলে রিপিটার মোড ব্যবহার করুন। এতে পুরোনো রাউটার মূল ওয়াই-ফাই সংকেত ধরবে এবং নতুন নামে পুনঃসম্প্রচার করবে। তবে মনে রাখবেন, এতে ইন্টারনেটের গতি কিছুটা কমে যায়-প্রায় অর্ধেক হতে পারে। ৩. প্রতিটি রাউটারের পদ্ধতি আলাদা হতে পারে সব রাউটার AP বা রিপিটার মোড সমর্থন করে না। তাই রাউটারের ইউজার ম্যানুয়াল বা নির্মাতার ওয়েবসাইট থেকে নির্দেশনা দেখে নিতে হবে। কিছু ক্ষেত্রে থার্ড পার্টি ফার্মওয়্যার (যেমন: DD-WRT) ব্যবহার করেও বাড়তি ফিচার চালু করা সম্ভব।

ঈদে আসছে নতুন টাকা, থাকছে না কোনো ব্যক্তির ছবি: গভর্নর

শনিবার (২৪ মে) সকালে পল্লী কর্ম সহায়ক ফাউন্ডেশনে দেশের প্রথম ক্রেডিট এনহ্যান্সমেন্ট স্কিম উদ্বোধন শেষে এ কথা বলেন তিনি।গভর্নর বলেন, ‘নতুন নোটে থাকবে দেশের বিভিন্ন ঐতিহাসিক স্থাপনা। ঈদে বাজারে প্রথমে ১০০০, ৫০ ও ২০ টাকার নতুন নোট আসবে।’টাঁকশাল থেকে জানা গেছে, ২০ টাকার নোট ছাপা প্রায় সম্পন্ন। আগামী সপ্তাহে বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে হস্তান্তর করা হবে। এর পরে ৫০ ও ১০০০ টাকার নোট বাংলাদেশ ব্যাংককে বুঝিয়ে দেবে টাঁকশাল। এরপর কেন্দ্রীয় ব্যাংক সিদ্ধান্ত নেবে এই টাকা কবে বাজারে আসবে।টাঁকশাল জানিয়েছে, নতুন নকশার নোট ছাপাতে ১ থেকে দেড় বছর সময় লাগে। আগস্টে ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হয়। গত ডিসেম্বরে নতুন নকশার নোট বাজারে আনার সিদ্ধান্ত নেয় এই সরকার। তারই ধারাবাহিকতায় টাঁকশাল চলতি মাসে নতুন নকশার নোট ছাপানো শুরু করে।টাঁকশাল আরও জানায়, একসঙ্গে ৩টি নোটের বেশি ছাপানোর সক্ষমতা নেই টাঁকশালের। তাই প্রথম ধাপে ১০০০, ৫০ ও ২০ টাকার নোট ছাপানো হচ্ছে।এদিকে গভর্নর জানিয়েছে, পাচার হওয়া অর্থ ফিরিয়ে আনা অন্তর্বর্তী সরকারের রাজনৈতিক অঙ্গীকার।তিনি বলেন, ‘বিশ্বের বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রচারিত হওয়ায় তা ফেরত পাঠাতে চাপ তৈরি হয়েছে। পাচারকৃত অর্থ ফ্রিজ করায় অর্থ ফেরত আনার প্রথম ধাপ সম্পন্ন হয়েছে।’গভর্নর বলেন, ‘স্কিমের আওতায় পিকেএসএফ অংশীদার এমএফআই গুলোকে ২৪০ কোটি টাকার রিজার্ভ তহবিল ভিত্তিতে ব্যাংক ঋণ গ্যারান্টি দেবে। ঋণের গ্যারান্টি অনুযায়ী এককালীন ০.৫ শতাংশ কমিশন আদায় করা হবে। এর মাধ্যমে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের ব্যাংক ঋণ পাওয়া সহজ হবে।’

১২ আগস্ট ২০২৬, ১২:১৫ এএম
বর্তমান সরকার কি অসহনীয় লোডশেডিং সহনীয় পর্যায়ে নিয়ে আসতে পারবে?

বর্তমান সরকার কি অসহনীয় লোডশেডিং সহনীয় পর্যায়ে নিয়ে আসতে পারবে?

  হ্যাঁ
  না
  মন্তব্য নেই
মোট ভোটদাতাঃ জন
লিংক কপি করা হয়েছে!

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে অংশ নেবে জামায়াত

আসন্ন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামী। একক প্রার্থী দেওয়ার বিষয়টি রোববার জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোটের শরিক দলগুলোর সমন্বয়ে গঠিত ১১ দলীয় ঐক্যের শীর্ষ বৈঠকে চূড়ান্ত করা হবে। শনিবার (৮ আগস্ট) সন্ধ্যায় রাজধানীর মগবাজারে জামায়াতের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে দলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের এক বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন জামায়াত আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান। দলের কেন্দ্রীয় প্রচার বিভাগের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে শনিবার রাতে বলা হয়, ‘বৈঠকে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ারসহ নির্বাহী পরিষদের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।’ সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘বৈঠকে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনার পর সর্বসম্মতভাবে জামায়াতে ইসলামীর নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। এই লক্ষ্যে রোববার (৯ আগস্ট) ১১ দলীয় ঐক্যের শীর্ষ বৈঠক আহ্বান করা হয়েছে। এই বৈঠকেই বিরোধীদলের প্রার্থীর নাম ঘোষণা করা হবে।’ রাষ্ট্রপতি নির্বাচন ছাড়াও বৈঠকে দেশের সামগ্রিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি, সংবিধান সংস্কার ইস্যু এবং ১১ দলীয় ঐক্য ঘোষিত চলমান রাজনৈতিক কর্মসূচিসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা হয়েছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।

নামাজের সময়সূচী
লোডিং হচ্ছে...
দেশজুড়ে চলছে তীব্র লোডশেডিং, হবিগঞ্জে ভুগছে গ্রামের মানুষ

দেশজুড়ে চলছে তীব্র লোডশেডিং, হবিগঞ্জে ভুগছে গ্রামের মানুষ

কাটেনি গ্যাসের সংকট। সব ক্ষেত্রেই এর প্রভাব পড়েছে। বিদ্যুৎ উৎপাদনেও পড়েছে গ্যাস সংকটের বড় ধরনের প্রভাব। গ্যাসের ঘাটতির কারণে গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো থেকে প্রায় ২ হাজার মেগাওয়াট উৎপাদন কমেছে। জুনেই পাইকারি পর্যায়ে গড়ে ১৯ দশমিক ৮৫ শতাংশ ও গ্রাহক পর্যায়ে গড়ে ১৬ দশমিক ৬৮ শতাংশ বেড়েছে বিদ্যুতের দাম। তবু বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর বিপুল পাওনা পরিশোধ করতে পারছে না বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি)। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে কারিগরি ত্রুটি। বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) ও পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশ পিএলসির (পিজিসিবি) তথ্য বলছে, কয়েক দিন ধরে প্রতিদিন সর্বোচ্চ লোডশেডিং হচ্ছে তিন হাজার মেগাওয়াটের বেশি। সোমবার রাত ৮টা পর্যন্ত সর্বোচ্চ লোডশেডিং হয়েছে তিন হাজার ৭৫৭ মেগাওয়াট। এর আগের দিন ছিল ৩ হাজার ৬৭১ মেগাওয়াট। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, গত আওয়ামী লীগ সরকার দেড় দশকে পাইকারি পর্যায়ে ১২ বার ও খুচরা পর্যায়ে ১৪ বার বিদ্যুতের দাম বাড়িয়েছে। জ্বালানি নিশ্চিত না করেই একের পর এক বিদ্যুৎকেন্দ্র করেছে। এসব কেন্দ্র বসে থাকলেও ক্যাপাসিটি চার্জ (কেন্দ্র ভাড়া) দিতে হচ্ছে। বিপুল বকেয়ার দায় রেখে গেছে। এখনো পিডিবির কাছে বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর পাওনা প্রায় ৫০ হাজার কোটি টাকা। প্রতিবছর সরকারের ভর্তুকি বাড়ছে। কিন্তু মানুষের নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত হয়নি। ২০২২ সাল থেকে প্রতিবছর গরম বাড়লেই দেখা দেয় লোডশেডিং। ঢাকার বাইরের জেলাগুলোতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লোডশেডিংয়ের ভোগান্তি পোহায় মানুষ। তবে বৃষ্টি নামলে বিদ্যুৎ চাহিদা কমে, মানুষ কিছুটা স্বস্তি পায়। বিদ্যুৎ উৎপাদনের জ্বালানিস্বল্পতা প্রকট। গ্যাসের সংকট পুরোপুরি কাটেনি। ব্যয়বহুল জ্বালানি তেল থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়ানো হচ্ছে না। ফলে বেড়ে গেছে লোডশেডিং। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পিডিবির দুই দায়িত্বশীল কর্মকর্তা বলেন, বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর সুফল পেতে দুই মাস সময় লাগে। তাই বাড়তি আয় এখনো পিডিবির হিসাবে আসেনি। তবে দাম বাড়ানোর পর পিডিবির বকেয়া নতুন করে আর বাড়বে না। পুরোনো বকেয়া ধাপে ধাপে শোধ করা হবে। বিদ্যুৎ বিভাগের তথ্য বলছে, দেশে বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা ২৯ হাজার মেগাওয়াট। সোমবার সর্বোচ্চ লোডশেডিংয়ের সময় চাহিদা ছিল ১৬ হাজার ২৬২ মেগাওয়াট। সরবরাহ হয়েছে সাড়ে ১২ হাজার মেগাওয়াট। ওই সময় অর্ধেকের বেশি সক্ষমতা বসিয়ে রাখতে হয়েছিল। দিনের অধিকাংশ সময় এমনটাই করতে হচ্ছে। গ্যাস থেকে উৎপাদন হচ্ছে ৪ হাজার মেগাওয়াটের কম। গ্যাসের সরবরাহ বাড়তে আরও কয়েক দিন সময় লাগতে পারে। তেলচালিত কেন্দ্র থেকে উৎপাদন বাড়ালে খরচ আরও বেড়ে যাবে, তাই চালানো হচ্ছে কম। রাতের বেলায় টানা কয়েক ঘণ্টা তিন হাজার মেগাওয়াটের বেশি চালালেও বেশির ভাগ সময় গড়ে দেড় হাজার মেগাওয়াটের কম চলছে তেলচালিত বিদ্যুৎকেন্দ্র। পিডিবির কর্মকর্তারা বলছেন, বিদ্যুৎ উৎপাদনে তাই মূল ভরসার জায়গা এখন কয়লাচালিত বিদ্যুৎকেন্দ্র। এর মধ্যে তিনটি বড় বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে সরবরাহ কমেছে। একটি ইউনিটে রক্ষণাবেক্ষণ শুরু করায় ২ আগস্ট থেকে উৎপাদন অর্ধেকে নামে পটুয়াখালীর পায়রা বিদ্যুৎকেন্দ্রের। গত রোববার রাত থেকে আবার এটি চালু করে উৎপাদন বাড়াতে শুরু করেছে। যদিও কেন্দ্রটির পাওনা ৯ হাজার কোটি টাকার বেশি। বিল না পেলে আগামী মাস থেকে কয়লা সরবরাহ ব্যাহত হতে পারে। পটুয়াখালীর আরেকটি কয়লা বিদ্যুৎকেন্দ্রেও কয়লার স্বল্পতা দেখা দিয়েছে, কমেছে উৎপাদন। ৭ আগস্ট থেকে উৎপাদন কমিয়েছে ভারতের ঝাড়খন্ডে নির্মিত আদানির বিদ্যুৎকেন্দ্র। ঝড়-বৃষ্টিতে কয়লা সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় উৎপাদন ধরে রাখতে পারেনি কেন্দ্রটি। গ্যাসের স্বল্পতা আছে, কয়লা থেকেও উৎপাদন কমে গেছে। কিন্তু তেলচালিত বিদ্যুৎকেন্দ্র সারা দিন চালানো ব্যয়বহুল। সন্ধ্যার পর লোডশেডিং সহনীয় রাখতে উৎপাদন বাড়ানো হচ্ছে। মধ্যরাতের পর উৎপাদন কমানো হচ্ছে এবং লোডশেডিং বেড়ে যাচ্ছে। উৎপাদন বাড়ানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। জনসংযোগ কোম্পানি ফাইভ ডব্লিউ কমিউনিকেশনসের মাধ্যমে মঙ্গলবার রাতে আদানির বিদ্যুৎকেন্দ্রের পক্ষ থেকে জানিয়েছে, ১২ আগস্টের মধ্যে কয়লা সরবরাহ স্বাভাবিক হবে। পিডিবির সদস্য (উৎপাদন) মো. জহুরুল ইসলাম বলেন, গ্যাসের স্বল্পতা আছে, কয়লা থেকেও উৎপাদন কমে গেছে। কিন্তু তেলচালিত বিদ্যুৎকেন্দ্র সারা দিন চালানো ব্যয়বহুল। সন্ধ্যার পর লোডশেডিং সহনীয় রাখতে উৎপাদন বাড়ানো হচ্ছে। মধ্যরাতের পর উৎপাদন কমানো হচ্ছে এবং লোডশেডিং বেড়ে যাচ্ছে। উৎপাদন বাড়ানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। ঢাকার দুই বিদ্যুৎ বিতরণ সংস্থা ডেসকো ও ডিপিডিসি সূত্র বলছে, তাদের বিদ্যুৎ চাহিদায় ঘাটতি নেই। আর ঢাকার বাইরের বাকি চারটি বিতরণ সংস্থার সূত্র বলছে, চাহিদার তুলনায় খুব কম বিদ্যুৎ পাচ্ছে আরইবি, যারা সারা দেশের গ্রামে বিদ্যুৎ সরবরাহ করে। পিডিবি ও আরইবি মিলে ফেনী জেলার বিদ্যুতের চাহিদা রয়েছে ১৪০ মেগাওয়াট। গড়ে প্রতিদিন ঘাটতি ৩০ মেগাওয়াট। ফেনীর স্টারলাইন ফুড প্রোডাক্ট প্রাইভেট লিমিটেডের পরিচালক মো. মাইন উদ্দিন বলেন, কারখানার উৎপাদনে প্রতিদিন গড়ে ৩৫ শতাংশ সময় লোডশেডিং হচ্ছে। ফেনী পল্লী বিদ্যুৎ বিভাগের এজিএম (অপারেশন অ্যান্ড মেইনটেনেন্স) মোহাম্মদ বাইজিদ হোসেন শাহ বলেন, ফেনীতে পল্লী বিদ্যুতের ১৫ শতাংশ ঘাটতি রয়েছে। দিনে তো বিদ্যুৎ থাকেই না, প্রচণ্ড গরমে বিদ্যুৎ চলে গেলে বাচ্চারা ঘুম থেকে উঠে কান্নাকাটি শুরু করে। রাতে একটু ঘুমানোর সুযোগও হচ্ছে না। নেত্রকোনার বাসিন্দা খালিদ বলেন, ২৪ ঘণ্টায় গড়ে ৪ থেকে ৫ ঘণ্টাও বিদ্যুৎ পাওয়া যায় না।  নেত্রকোনা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির মহাব্যবস্থাপক আকরাম হোসেন বলেন, ১৫৮ মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে সরবরাহ হয়েছে ৫৯ মেগাওয়াট। তাই ঘন ঘন লোডশেডিং করতে হচ্ছে। হবিগঞ্জের কোথাও কোথাও প্রায় ১৫ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকছে না। চা–পাতা প্রক্রিয়াজাতকরণের জন্য নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ জরুরি। চুনারুঘাট উপজেলার দেউন্দি চা–বাগানের সহকারী ব্যবস্থাপক দেবাশীষ রায় বলেন, ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুৎ না থাকলে প্রক্রিয়াজাত পাতা নষ্ট হয়। এতে লোকসান গুনতে হচ্ছে বাগানগুলোকে। কেরানীগঞ্জে ধারাবাহিক লোডশেডিংয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। গোলামবাজারের বাসিন্দা হাসান কবির টুটুল বলেন, দিনে তো বিদ্যুৎ থাকেই না, প্রচণ্ড গরমে বিদ্যুৎ চলে গেলে বাচ্চারা ঘুম থেকে উঠে কান্নাকাটি শুরু করে। রাতে একটু ঘুমানোর সুযোগও হচ্ছে না। ঢাকা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-৪ (সদর দপ্তর) মহাব্যবস্থাপক গোলাম কাউসার তালুকদার বলেন, কেরানীগঞ্জে বিদ্যুতের চাহিদা রয়েছে ২৪০ মেগাওয়াট। প্রতিদিন প্রায় ৮০ মেগাওয়াট ঘাটতি থাকছে। দীর্ঘ সময় ধরে লোডশেডিংয়ে নীলফামারীর ডোমার উপজেলার গ্রাহকদের মধ্যে চরম অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। এ পরিস্থিতিতে বিদ্যুৎ স্থাপনা ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছে নীলফামারী পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি। গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোতে নিরাপত্তা জোরদার ও নিয়মিত পুলিশ টহলের ব্যবস্থা চেয়ে থানায় লিখিত আবেদন করেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। ডোমার থানায় দেওয়া লিখিত আবেদনে বলা হয়েছে, জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ উৎপাদন ও সরবরাহের ঘাটতির কারণে বরাদ্দ অনুযায়ী বিভিন্ন এলাকায় লোডশেডিং করে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হচ্ছে। এতে গরমের সময়ে গ্রাহকদের দুর্ভোগ বেড়েছে। পাশাপাশি জনমনে সৃষ্টি হয়েছে অসন্তোষ। এমন পরিস্থিতিতে বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোতে যে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এড়াতে নিরাপত্তা জোরদার করা প্রয়োজন বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়। নীলফামারী জেলা সদরের বাসিন্দা নিলা বলেন, ‘কয়েক দিন ধরি যে গরম পইচ্ছে, তাতে কাজ কাম করা কঠিন হইছে। তার ওপর যোগ হইছে বিদ্যুতের লোডশেডিং। একবার গেইলে আইসার কোনো ঠিক ঠিকানা নাই।’ ডোমার উপজেলা নেসকোর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. নওশাদ আলী বলেন, প্রয়োজনের তুলনায় অর্ধেক বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে। এ কারণে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ১০ ঘণ্টাও বিদ্যুৎ পাচ্ছেন না গ্রাহক।

কোন ভিডিও নেই !
কোন ভিডিও নেই !
যমুনা ফিউচার পার্কে ‘ঈদ বাজার’ উৎসব

যমুনা ফিউচার পার্কে ‘ঈদ বাজার’ উৎসব

পোশাক কেনার সঙ্গে ঘোরাঘুরি ক্রেতাদের আনন্দে যোগ করেছে নতুন মাত্রা। বন্ধু-বান্ধব নিয়ে যমুনায় আসছেন সব বয়সি মানুষ। মা-বাবার হাত ধরে আসছে পরিবারের ছোট সদস্যও। বাহারি ডিজাইনের পোশাকের সঙ্গে কিনছে রং-বেরংয়ের খেলনা। চড়ছে নানা রাইডে। দিনভর কেনাকাটা শেষে রসনা তৃপ্তিতে ফুডকোর্টে লোভনীয় মজাদার খাবারও রয়েছে। সবশেষে সিনেমা দেখে খুশি মনে সবাই ফিরছেন বাড়ি। সব মিলিয়ে যমুনা ফিউচার পার্কে কেনাকাটা করতে আসা সবাই ঈদের আগেই যেন ঈদ আনন্দ উপভোগ করছেন।শপিংমল কর্তৃপক্ষ জানায়, ঈদের কেনাকাটার সেরা গন্তব্য হিসাবে যমুনা ফিউচার পার্কে ১৫শর বেশি দেশীয় ও আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ড নিয়ে এবারের ‘ঈদ বাজার’ উৎসব সাজানো হয়েছে। যেখানে থাকছে ঐতিহ্যবাহী পোশাক, ডিজাইনার কালেকশন, ইলেকট্রনিক্স, এক্সেসরিজ, জুতা, পারফিউম, হোম ডেকরসহ আরও অনেক কিছু। ফ্যাশন, লাইফস্টাইল এবং টেক ক্যাটাগরিতে থাকছে বিশেষ ঈদ ছাড়, এক্সক্লুসিভ লঞ্চ এবং আকর্ষণীয় বান্ডেল অফার। এছাড়াও বিকাশ, নগদ মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস এবং ব্যাংক কার্ডে থাকছে বিশেষ ক্যাশব্যাক ও ইনস্ট্যান্ট ডিসকাউন্ট অফার। যা ঈদের কেনাকাটাকে করবে আরও সাশ্রয়ী ও আনন্দদায়ক।পছন্দের পণ্য কিনতে সর্ববৃহৎ শপিংমলে সকাল থেকেই সব শ্রেণির ক্রেতা ভিড় করছেন। এক শোরুম থেকে আরেক শোরুম ঘুরে কিনছেন হাল ফ্যাশনের বৈচিত্র্যময় পোশাক। পোশাক কেনা শেষ করে ক্রেতারা যাচ্ছেন জুতার শোরুমে। সেখান থেকে গহনার দোকানে। এছাড়া কসমেটিকস, ক্রোকারিজ, পারফিউমসহ সব ধরনের পণ্য থাকায় ঈদ ঘিরে জমজমাট যমুনা ফিউচার পার্ক। সঙ্গে মোবাইল ও ইলেকট্রনিক্সের শোরুমগুলোতেও ঈদ ঘিরে বিক্রি বেড়েছে। এতে খুশি বিক্রেতারা।শনিবার ইনফিনিটি, কে-ক্রাফট, অঞ্জনস, আড়ং, জিন্স অ্যান্ড কোম্পানি, টুয়েলভ, রেড, জেন্টল পার্ক, টিনস ক্লাব, প্লাস পয়েন্ট, কান্ট্রি বয়, রেঞ্জ, লা রিভ, আর্টিসান, টপ টেন পোশাকের ব্র্যান্ড ও শপগুলোতে প্রচুর ক্রেতা সমাগম লক্ষ্য করা গেছে।শপিংমলের বুটিক্স ল্যাবের স্বত্বাধিকারী সুমাইয়া আক্তার যুগান্তরকে বলেন, ক্রেতাদের আস্থার কথা চিন্তা করে গ্রাউন্ড ফ্লোরে আমাদের আরেকটি আউটলেট উদ্বোধন করা হয়েছে। যেখানে ঈদ বাজার উপলক্ষ্যে ৫ জুন পর্যন্ত সব ধরনের পোশাকে সর্বোচ্চ ৪০ শতাংশ পর্যন্ত ছাড়ে পণ্য বিক্রি হবে। এছাড়া শনিবার প্রত্যেকটি পোশাকে ৩০০ টাকা করে ডিসকাউন্টে বিক্রি হচ্ছে।

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে অংশ নেবে জামায়াত

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে অংশ নেবে জামায়াত

আসন্ন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামী। একক প্রার্থী দেওয়ার বিষয়টি রোববার জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোটের শরিক দলগুলোর সমন্বয়ে গঠিত ১১ দলীয় ঐক্যের শীর্ষ বৈঠকে চূড়ান্ত করা হবে। শনিবার (৮ আগস্ট) সন্ধ্যায় রাজধানীর মগবাজারে জামায়াতের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে দলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের এক বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন জামায়াত আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান। দলের কেন্দ্রীয় প্রচার বিভাগের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে শনিবার রাতে বলা হয়, ‘বৈঠকে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ারসহ নির্বাহী পরিষদের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।’ সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘বৈঠকে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনার পর সর্বসম্মতভাবে জামায়াতে ইসলামীর নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। এই লক্ষ্যে রোববার (৯ আগস্ট) ১১ দলীয় ঐক্যের শীর্ষ বৈঠক আহ্বান করা হয়েছে। এই বৈঠকেই বিরোধীদলের প্রার্থীর নাম ঘোষণা করা হবে।’ রাষ্ট্রপতি নির্বাচন ছাড়াও বৈঠকে দেশের সামগ্রিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি, সংবিধান সংস্কার ইস্যু এবং ১১ দলীয় ঐক্য ঘোষিত চলমান রাজনৈতিক কর্মসূচিসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা হয়েছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।

জাতীয় সরকার গঠনের আহ্বান ইনকিলাব মঞ্চের

জাতীয় সরকার গঠনের আহ্বান ইনকিলাব মঞ্চের

শনিবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনে দেশের চলমান সংকট মোকাবিলায় জরুরি সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।ফ্যাসিবাদবিরোধী সব রাজনৈতিক দল নিয়ে জাতীয় সরকার গঠনের আহ্বান জানিয়ে শরিফ ওসমান হাদি বলেন, বিএনপি অসহযোগিতা করলে তাদের জাতির কাছে জবাবদিহি করতে হবে। জামায়াত অসহযোগিতা করলে জবাবদিহি করতে হবে তাদেরও। এই সরকারের মেয়াদ হবে ১০ মাস থেকে এক বছর। যদি জাতীয় সরকার না করতে পারেন তাহলে জাতীয় ঐক্য কাউন্সিল গড়ে তোলেন। জাতীয় ঐক্য কাউন্সিল প্রধান হবেন ড. ইউনূস। সব রাজনৈতিক দল থেকে সেখানে প্রতিনিধি থাকবে সদস্য হিসাবে। তাদের সাংবিধানিক মর্যাদা হবে ক্যাবিনেট মন্ত্রী পরিষদের মতো। তারা মন্ত্রী হবেন না, উপদেষ্টা হবেন না কিন্তু ওয়াচডগ হিসাবে কাজ করবেন।জুলাই ঘোষণাপত্র প্রসঙ্গে তিনি বলেন, যতক্ষণ পর্যন্ত জুলাই ঘোষণাপত্রের কার্যক্রম না হয় ততক্ষণ পর্যন্ত আওয়ামী কার্যক্রম নিষিদ্ধ করে কোনো লাভ নেই। যদি জুলাই ঘোষণাপত্র না আসে, যারা জুলাইয়ের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন দিল্লির সঙ্গে মিলে আওয়ামী লীগ তাদের কচুকাটা করবে। জুলাই ঘোষণাপত্র সাংবিধানিক স্বীকৃতি পেলেই আওয়ামী কার্যক্রম নিষিদ্ধ হবে।

সরকারের কাছে পাঁচ দাবি জানিয়েছে এনসিপি

সরকারের কাছে পাঁচ দাবি জানিয়েছে এনসিপি

দেষ্টাকে বলেছি, গণঅভ্যুত্থানের যে প্রতিশ্রুতি রক্ষায় দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন সেই দায়িত্ব শেষ করেই অন্য কোনো সিদ্ধান্ত নেবেন।এনসিপির পাঁচ দাবি সম্পর্কে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের আন্দোলনে জুলাই ঘোষণাপত্র একটি দাবি ছিল এবং সেটি বাস্তবায়নে সরকারের পক্ষ থেকে ৩০ কার্যদিবস সময় নেওয়া হয়েছিল; সেটি যেন নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই বাস্তবায়ন করা হয় সে দাবি জানিয়েছি। আমাদের এ দাবির পরিপ্রেক্ষিতে ড. ইউনূস স্যারের পক্ষ থেকে আশ্বস্ত করা হয়েছে যে, নির্ধারিত সময়ে জুলাই ঘোষণাপত্র প্রকাশ করা হবে।নাহিদ বলেন, দ্বিতীয়ত—জুলাই আন্দোলনে যারা শহিদ ও আহত হয়েছেন তাদের পুনর্বাসন প্রক্রিয়া ধীরগতিতে হচ্ছে সেটি দ্রুত সময়ের মধ্যে করতে হবে। তৃতীয়ত—শেখ হাসিনার আমলে হওয়া জাতীয় ও স্থানীয় সব নির্বাচনকে আনুষ্ঠানিকভাবে অবৈধ ঘোষণা করতে বলেছি। কারণ সে সময়ে শেখ হাসিনা ফ্যাসিবাদী শাসনব্যবস্থায় নির্বাচন করেছিল এবং মানুষের ভোটাধিকার হরণ করেছিল। দিনের ভোট রাতে করেছে, ডামি প্রার্থীর ভোট হয়েছে। ফলে সেই নির্বাচনগুলো নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। সেই নির্বাচনগুলোকে সেই সময়ের বিরোধী দলীয় রাজনৈতিক দলগুলো বিভিন্ন সময়ে প্রত্যাখান করেছে। আবার সেই নির্বাচনগুলো নিয়ে আদালতে নিয়ে এক ধরনের পরিস্থিতি তৈরি করা হচ্ছে। সেই বিশৃঙ্খলা এড়াতে পূর্বের নির্বাচনগুলোকে আইনগতভাবে যাতে অবৈধ ঘোষণা করা হয় সেই দাবি জানিয়েছি।চতুর্থ নম্বরে নাহিদ জানান, রাজনৈতিক দল হিসেবে বর্তমান যে ইলেকশন কমিশন সেটার ওপরে আস্থা রাখতে পারছেন না। ইলেকশন কমিশন পুনর্গঠন করে স্থানীয় নির্বাচন দ্রুত আয়োজন করার দাবি জানান তারা।সর্বশেষ জুলাই গণহত্যার বিচার ও জাতীয় নির্বাচনের রোডম্যাপ ঘোষণার দাবি জানিয়েছে এনসিপি।প্রধান উপদেষ্টার সরকারি বাসভবন যমুনায় অনুষ্ঠিত

সরকারের কাছে পাঁচ দাবি জানিয়েছে এনসিপি

সরকারের কাছে পাঁচ দাবি জানিয়েছে এনসিপি

দেষ্টাকে বলেছি, গণঅভ্যুত্থানের যে প্রতিশ্রুতি রক্ষায় দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন সেই দায়িত্ব শেষ করেই অন্য কোনো সিদ্ধান্ত নেবেন।এনসিপির পাঁচ দাবি সম্পর্কে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের আন্দোলনে জুলাই ঘোষণাপত্র একটি দাবি ছিল এবং সেটি বাস্তবায়নে সরকারের পক্ষ থেকে ৩০ কার্যদিবস সময় নেওয়া হয়েছিল; সেটি যেন নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই বাস্তবায়ন করা হয় সে দাবি জানিয়েছি। আমাদের এ দাবির পরিপ্রেক্ষিতে ড. ইউনূস স্যারের পক্ষ থেকে আশ্বস্ত করা হয়েছে যে, নির্ধারিত সময়ে জুলাই ঘোষণাপত্র প্রকাশ করা হবে।নাহিদ বলেন, দ্বিতীয়ত—জুলাই আন্দোলনে যারা শহিদ ও আহত হয়েছেন তাদের পুনর্বাসন প্রক্রিয়া ধীরগতিতে হচ্ছে সেটি দ্রুত সময়ের মধ্যে করতে হবে। তৃতীয়ত—শেখ হাসিনার আমলে হওয়া জাতীয় ও স্থানীয় সব নির্বাচনকে আনুষ্ঠানিকভাবে অবৈধ ঘোষণা করতে বলেছি। কারণ সে সময়ে শেখ হাসিনা ফ্যাসিবাদী শাসনব্যবস্থায় নির্বাচন করেছিল এবং মানুষের ভোটাধিকার হরণ করেছিল। দিনের ভোট রাতে করেছে, ডামি প্রার্থীর ভোট হয়েছে। ফলে সেই নির্বাচনগুলো নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। সেই নির্বাচনগুলোকে সেই সময়ের বিরোধী দলীয় রাজনৈতিক দলগুলো বিভিন্ন সময়ে প্রত্যাখান করেছে। আবার সেই নির্বাচনগুলো নিয়ে আদালতে নিয়ে এক ধরনের পরিস্থিতি তৈরি করা হচ্ছে। সেই বিশৃঙ্খলা এড়াতে পূর্বের নির্বাচনগুলোকে আইনগতভাবে যাতে অবৈধ ঘোষণা করা হয় সেই দাবি জানিয়েছি।চতুর্থ নম্বরে নাহিদ জানান, রাজনৈতিক দল হিসেবে বর্তমান যে ইলেকশন কমিশন সেটার ওপরে আস্থা রাখতে পারছেন না। ইলেকশন কমিশন পুনর্গঠন করে স্থানীয় নির্বাচন দ্রুত আয়োজন করার দাবি জানান তারা।সর্বশেষ জুলাই গণহত্যার বিচার ও জাতীয় নির্বাচনের রোডম্যাপ ঘোষণার দাবি জানিয়েছে এনসিপি।প্রধান উপদেষ্টার সরকারি বাসভবন যমুনায় অনুষ্ঠিত

দেশজুড়ে চলছে তীব্র লোডশেডিং, হবিগঞ্জে ভুগছে গ্রামের মানুষ

দেশজুড়ে চলছে তীব্র লোডশেডিং, হবিগঞ্জে ভুগছে গ্রামের মানুষ

কাটেনি গ্যাসের সংকট। সব ক্ষেত্রেই এর প্রভাব পড়েছে। বিদ্যুৎ উৎপাদনেও পড়েছে গ্যাস সংকটের বড় ধরনের প্রভাব। গ্যাসের ঘাটতির কারণে গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো থেকে প্রায় ২ হাজার মেগাওয়াট উৎপাদন কমেছে। জুনেই পাইকারি পর্যায়ে গড়ে ১৯ দশমিক ৮৫ শতাংশ ও গ্রাহক পর্যায়ে গড়ে ১৬ দশমিক ৬৮ শতাংশ বেড়েছে বিদ্যুতের দাম। তবু বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর বিপুল পাওনা পরিশোধ করতে পারছে না বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি)। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে কারিগরি ত্রুটি। বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) ও পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশ পিএলসির (পিজিসিবি) তথ্য বলছে, কয়েক দিন ধরে প্রতিদিন সর্বোচ্চ লোডশেডিং হচ্ছে তিন হাজার মেগাওয়াটের বেশি। সোমবার রাত ৮টা পর্যন্ত সর্বোচ্চ লোডশেডিং হয়েছে তিন হাজার ৭৫৭ মেগাওয়াট। এর আগের দিন ছিল ৩ হাজার ৬৭১ মেগাওয়াট। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, গত আওয়ামী লীগ সরকার দেড় দশকে পাইকারি পর্যায়ে ১২ বার ও খুচরা পর্যায়ে ১৪ বার বিদ্যুতের দাম বাড়িয়েছে। জ্বালানি নিশ্চিত না করেই একের পর এক বিদ্যুৎকেন্দ্র করেছে। এসব কেন্দ্র বসে থাকলেও ক্যাপাসিটি চার্জ (কেন্দ্র ভাড়া) দিতে হচ্ছে। বিপুল বকেয়ার দায় রেখে গেছে। এখনো পিডিবির কাছে বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর পাওনা প্রায় ৫০ হাজার কোটি টাকা। প্রতিবছর সরকারের ভর্তুকি বাড়ছে। কিন্তু মানুষের নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত হয়নি। ২০২২ সাল থেকে প্রতিবছর গরম বাড়লেই দেখা দেয় লোডশেডিং। ঢাকার বাইরের জেলাগুলোতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লোডশেডিংয়ের ভোগান্তি পোহায় মানুষ। তবে বৃষ্টি নামলে বিদ্যুৎ চাহিদা কমে, মানুষ কিছুটা স্বস্তি পায়। বিদ্যুৎ উৎপাদনের জ্বালানিস্বল্পতা প্রকট। গ্যাসের সংকট পুরোপুরি কাটেনি। ব্যয়বহুল জ্বালানি তেল থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়ানো হচ্ছে না। ফলে বেড়ে গেছে লোডশেডিং। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পিডিবির দুই দায়িত্বশীল কর্মকর্তা বলেন, বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর সুফল পেতে দুই মাস সময় লাগে। তাই বাড়তি আয় এখনো পিডিবির হিসাবে আসেনি। তবে দাম বাড়ানোর পর পিডিবির বকেয়া নতুন করে আর বাড়বে না। পুরোনো বকেয়া ধাপে ধাপে শোধ করা হবে। বিদ্যুৎ বিভাগের তথ্য বলছে, দেশে বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা ২৯ হাজার মেগাওয়াট। সোমবার সর্বোচ্চ লোডশেডিংয়ের সময় চাহিদা ছিল ১৬ হাজার ২৬২ মেগাওয়াট। সরবরাহ হয়েছে সাড়ে ১২ হাজার মেগাওয়াট। ওই সময় অর্ধেকের বেশি সক্ষমতা বসিয়ে রাখতে হয়েছিল। দিনের অধিকাংশ সময় এমনটাই করতে হচ্ছে। গ্যাস থেকে উৎপাদন হচ্ছে ৪ হাজার মেগাওয়াটের কম। গ্যাসের সরবরাহ বাড়তে আরও কয়েক দিন সময় লাগতে পারে। তেলচালিত কেন্দ্র থেকে উৎপাদন বাড়ালে খরচ আরও বেড়ে যাবে, তাই চালানো হচ্ছে কম। রাতের বেলায় টানা কয়েক ঘণ্টা তিন হাজার মেগাওয়াটের বেশি চালালেও বেশির ভাগ সময় গড়ে দেড় হাজার মেগাওয়াটের কম চলছে তেলচালিত বিদ্যুৎকেন্দ্র। পিডিবির কর্মকর্তারা বলছেন, বিদ্যুৎ উৎপাদনে তাই মূল ভরসার জায়গা এখন কয়লাচালিত বিদ্যুৎকেন্দ্র। এর মধ্যে তিনটি বড় বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে সরবরাহ কমেছে। একটি ইউনিটে রক্ষণাবেক্ষণ শুরু করায় ২ আগস্ট থেকে উৎপাদন অর্ধেকে নামে পটুয়াখালীর পায়রা বিদ্যুৎকেন্দ্রের। গত রোববার রাত থেকে আবার এটি চালু করে উৎপাদন বাড়াতে শুরু করেছে। যদিও কেন্দ্রটির পাওনা ৯ হাজার কোটি টাকার বেশি। বিল না পেলে আগামী মাস থেকে কয়লা সরবরাহ ব্যাহত হতে পারে। পটুয়াখালীর আরেকটি কয়লা বিদ্যুৎকেন্দ্রেও কয়লার স্বল্পতা দেখা দিয়েছে, কমেছে উৎপাদন। ৭ আগস্ট থেকে উৎপাদন কমিয়েছে ভারতের ঝাড়খন্ডে নির্মিত আদানির বিদ্যুৎকেন্দ্র। ঝড়-বৃষ্টিতে কয়লা সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় উৎপাদন ধরে রাখতে পারেনি কেন্দ্রটি। গ্যাসের স্বল্পতা আছে, কয়লা থেকেও উৎপাদন কমে গেছে। কিন্তু তেলচালিত বিদ্যুৎকেন্দ্র সারা দিন চালানো ব্যয়বহুল। সন্ধ্যার পর লোডশেডিং সহনীয় রাখতে উৎপাদন বাড়ানো হচ্ছে। মধ্যরাতের পর উৎপাদন কমানো হচ্ছে এবং লোডশেডিং বেড়ে যাচ্ছে। উৎপাদন বাড়ানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। জনসংযোগ কোম্পানি ফাইভ ডব্লিউ কমিউনিকেশনসের মাধ্যমে মঙ্গলবার রাতে আদানির বিদ্যুৎকেন্দ্রের পক্ষ থেকে জানিয়েছে, ১২ আগস্টের মধ্যে কয়লা সরবরাহ স্বাভাবিক হবে। পিডিবির সদস্য (উৎপাদন) মো. জহুরুল ইসলাম বলেন, গ্যাসের স্বল্পতা আছে, কয়লা থেকেও উৎপাদন কমে গেছে। কিন্তু তেলচালিত বিদ্যুৎকেন্দ্র সারা দিন চালানো ব্যয়বহুল। সন্ধ্যার পর লোডশেডিং সহনীয় রাখতে উৎপাদন বাড়ানো হচ্ছে। মধ্যরাতের পর উৎপাদন কমানো হচ্ছে এবং লোডশেডিং বেড়ে যাচ্ছে। উৎপাদন বাড়ানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। ঢাকার দুই বিদ্যুৎ বিতরণ সংস্থা ডেসকো ও ডিপিডিসি সূত্র বলছে, তাদের বিদ্যুৎ চাহিদায় ঘাটতি নেই। আর ঢাকার বাইরের বাকি চারটি বিতরণ সংস্থার সূত্র বলছে, চাহিদার তুলনায় খুব কম বিদ্যুৎ পাচ্ছে আরইবি, যারা সারা দেশের গ্রামে বিদ্যুৎ সরবরাহ করে। পিডিবি ও আরইবি মিলে ফেনী জেলার বিদ্যুতের চাহিদা রয়েছে ১৪০ মেগাওয়াট। গড়ে প্রতিদিন ঘাটতি ৩০ মেগাওয়াট। ফেনীর স্টারলাইন ফুড প্রোডাক্ট প্রাইভেট লিমিটেডের পরিচালক মো. মাইন উদ্দিন বলেন, কারখানার উৎপাদনে প্রতিদিন গড়ে ৩৫ শতাংশ সময় লোডশেডিং হচ্ছে। ফেনী পল্লী বিদ্যুৎ বিভাগের এজিএম (অপারেশন অ্যান্ড মেইনটেনেন্স) মোহাম্মদ বাইজিদ হোসেন শাহ বলেন, ফেনীতে পল্লী বিদ্যুতের ১৫ শতাংশ ঘাটতি রয়েছে। দিনে তো বিদ্যুৎ থাকেই না, প্রচণ্ড গরমে বিদ্যুৎ চলে গেলে বাচ্চারা ঘুম থেকে উঠে কান্নাকাটি শুরু করে। রাতে একটু ঘুমানোর সুযোগও হচ্ছে না। নেত্রকোনার বাসিন্দা খালিদ বলেন, ২৪ ঘণ্টায় গড়ে ৪ থেকে ৫ ঘণ্টাও বিদ্যুৎ পাওয়া যায় না।  নেত্রকোনা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির মহাব্যবস্থাপক আকরাম হোসেন বলেন, ১৫৮ মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে সরবরাহ হয়েছে ৫৯ মেগাওয়াট। তাই ঘন ঘন লোডশেডিং করতে হচ্ছে। হবিগঞ্জের কোথাও কোথাও প্রায় ১৫ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকছে না। চা–পাতা প্রক্রিয়াজাতকরণের জন্য নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ জরুরি। চুনারুঘাট উপজেলার দেউন্দি চা–বাগানের সহকারী ব্যবস্থাপক দেবাশীষ রায় বলেন, ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুৎ না থাকলে প্রক্রিয়াজাত পাতা নষ্ট হয়। এতে লোকসান গুনতে হচ্ছে বাগানগুলোকে। কেরানীগঞ্জে ধারাবাহিক লোডশেডিংয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। গোলামবাজারের বাসিন্দা হাসান কবির টুটুল বলেন, দিনে তো বিদ্যুৎ থাকেই না, প্রচণ্ড গরমে বিদ্যুৎ চলে গেলে বাচ্চারা ঘুম থেকে উঠে কান্নাকাটি শুরু করে। রাতে একটু ঘুমানোর সুযোগও হচ্ছে না। ঢাকা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-৪ (সদর দপ্তর) মহাব্যবস্থাপক গোলাম কাউসার তালুকদার বলেন, কেরানীগঞ্জে বিদ্যুতের চাহিদা রয়েছে ২৪০ মেগাওয়াট। প্রতিদিন প্রায় ৮০ মেগাওয়াট ঘাটতি থাকছে। দীর্ঘ সময় ধরে লোডশেডিংয়ে নীলফামারীর ডোমার উপজেলার গ্রাহকদের মধ্যে চরম অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। এ পরিস্থিতিতে বিদ্যুৎ স্থাপনা ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছে নীলফামারী পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি। গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোতে নিরাপত্তা জোরদার ও নিয়মিত পুলিশ টহলের ব্যবস্থা চেয়ে থানায় লিখিত আবেদন করেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। ডোমার থানায় দেওয়া লিখিত আবেদনে বলা হয়েছে, জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ উৎপাদন ও সরবরাহের ঘাটতির কারণে বরাদ্দ অনুযায়ী বিভিন্ন এলাকায় লোডশেডিং করে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হচ্ছে। এতে গরমের সময়ে গ্রাহকদের দুর্ভোগ বেড়েছে। পাশাপাশি জনমনে সৃষ্টি হয়েছে অসন্তোষ। এমন পরিস্থিতিতে বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোতে যে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এড়াতে নিরাপত্তা জোরদার করা প্রয়োজন বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়। নীলফামারী জেলা সদরের বাসিন্দা নিলা বলেন, ‘কয়েক দিন ধরি যে গরম পইচ্ছে, তাতে কাজ কাম করা কঠিন হইছে। তার ওপর যোগ হইছে বিদ্যুতের লোডশেডিং। একবার গেইলে আইসার কোনো ঠিক ঠিকানা নাই।’ ডোমার উপজেলা নেসকোর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. নওশাদ আলী বলেন, প্রয়োজনের তুলনায় অর্ধেক বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে। এ কারণে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ১০ ঘণ্টাও বিদ্যুৎ পাচ্ছেন না গ্রাহক।

আজকের আবহাওয়া
আবহাওয়া তথ্য লোড হচ্ছে...
--°
গড় তাপমাত্রা
--°
সর্বোচ্চ
--%
বৃষ্টির সম্ভাবনা
লোড হচ্ছে...
দেশজুড়ে চলছে তীব্র লোডশেডিং, হবিগঞ্জে ভুগছে গ্রামের মানুষ

দেশজুড়ে চলছে তীব্র লোডশেডিং, হবিগঞ্জে ভুগছে গ্রামের মানুষ

কাটেনি গ্যাসের সংকট। সব ক্ষেত্রেই এর প্রভাব পড়েছে। বিদ্যুৎ উৎপাদনেও পড়েছে গ্যাস সংকটের বড় ধরনের প্রভাব। গ্যাসের ঘাটতির কারণে গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো থেকে প্রায় ২ হাজার মেগাওয়াট উৎপাদন কমেছে। জুনেই পাইকারি পর্যায়ে গড়ে ১৯ দশমিক ৮৫ শতাংশ ও গ্রাহক পর্যায়ে গড়ে ১৬ দশমিক ৬৮ শতাংশ বেড়েছে বিদ্যুতের দাম। তবু বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর বিপুল পাওনা পরিশোধ করতে পারছে না বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি)। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে কারিগরি ত্রুটি। বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) ও পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশ পিএলসির (পিজিসিবি) তথ্য বলছে, কয়েক দিন ধরে প্রতিদিন সর্বোচ্চ লোডশেডিং হচ্ছে তিন হাজার মেগাওয়াটের বেশি। সোমবার রাত ৮টা পর্যন্ত সর্বোচ্চ লোডশেডিং হয়েছে তিন হাজার ৭৫৭ মেগাওয়াট। এর আগের দিন ছিল ৩ হাজার ৬৭১ মেগাওয়াট। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, গত আওয়ামী লীগ সরকার দেড় দশকে পাইকারি পর্যায়ে ১২ বার ও খুচরা পর্যায়ে ১৪ বার বিদ্যুতের দাম বাড়িয়েছে। জ্বালানি নিশ্চিত না করেই একের পর এক বিদ্যুৎকেন্দ্র করেছে। এসব কেন্দ্র বসে থাকলেও ক্যাপাসিটি চার্জ (কেন্দ্র ভাড়া) দিতে হচ্ছে। বিপুল বকেয়ার দায় রেখে গেছে। এখনো পিডিবির কাছে বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর পাওনা প্রায় ৫০ হাজার কোটি টাকা। প্রতিবছর সরকারের ভর্তুকি বাড়ছে। কিন্তু মানুষের নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত হয়নি। ২০২২ সাল থেকে প্রতিবছর গরম বাড়লেই দেখা দেয় লোডশেডিং। ঢাকার বাইরের জেলাগুলোতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লোডশেডিংয়ের ভোগান্তি পোহায় মানুষ। তবে বৃষ্টি নামলে বিদ্যুৎ চাহিদা কমে, মানুষ কিছুটা স্বস্তি পায়। বিদ্যুৎ উৎপাদনের জ্বালানিস্বল্পতা প্রকট। গ্যাসের সংকট পুরোপুরি কাটেনি। ব্যয়বহুল জ্বালানি তেল থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়ানো হচ্ছে না। ফলে বেড়ে গেছে লোডশেডিং। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পিডিবির দুই দায়িত্বশীল কর্মকর্তা বলেন, বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর সুফল পেতে দুই মাস সময় লাগে। তাই বাড়তি আয় এখনো পিডিবির হিসাবে আসেনি। তবে দাম বাড়ানোর পর পিডিবির বকেয়া নতুন করে আর বাড়বে না। পুরোনো বকেয়া ধাপে ধাপে শোধ করা হবে। বিদ্যুৎ বিভাগের তথ্য বলছে, দেশে বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা ২৯ হাজার মেগাওয়াট। সোমবার সর্বোচ্চ লোডশেডিংয়ের সময় চাহিদা ছিল ১৬ হাজার ২৬২ মেগাওয়াট। সরবরাহ হয়েছে সাড়ে ১২ হাজার মেগাওয়াট। ওই সময় অর্ধেকের বেশি সক্ষমতা বসিয়ে রাখতে হয়েছিল। দিনের অধিকাংশ সময় এমনটাই করতে হচ্ছে। গ্যাস থেকে উৎপাদন হচ্ছে ৪ হাজার মেগাওয়াটের কম। গ্যাসের সরবরাহ বাড়তে আরও কয়েক দিন সময় লাগতে পারে। তেলচালিত কেন্দ্র থেকে উৎপাদন বাড়ালে খরচ আরও বেড়ে যাবে, তাই চালানো হচ্ছে কম। রাতের বেলায় টানা কয়েক ঘণ্টা তিন হাজার মেগাওয়াটের বেশি চালালেও বেশির ভাগ সময় গড়ে দেড় হাজার মেগাওয়াটের কম চলছে তেলচালিত বিদ্যুৎকেন্দ্র। পিডিবির কর্মকর্তারা বলছেন, বিদ্যুৎ উৎপাদনে তাই মূল ভরসার জায়গা এখন কয়লাচালিত বিদ্যুৎকেন্দ্র। এর মধ্যে তিনটি বড় বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে সরবরাহ কমেছে। একটি ইউনিটে রক্ষণাবেক্ষণ শুরু করায় ২ আগস্ট থেকে উৎপাদন অর্ধেকে নামে পটুয়াখালীর পায়রা বিদ্যুৎকেন্দ্রের। গত রোববার রাত থেকে আবার এটি চালু করে উৎপাদন বাড়াতে শুরু করেছে। যদিও কেন্দ্রটির পাওনা ৯ হাজার কোটি টাকার বেশি। বিল না পেলে আগামী মাস থেকে কয়লা সরবরাহ ব্যাহত হতে পারে। পটুয়াখালীর আরেকটি কয়লা বিদ্যুৎকেন্দ্রেও কয়লার স্বল্পতা দেখা দিয়েছে, কমেছে উৎপাদন। ৭ আগস্ট থেকে উৎপাদন কমিয়েছে ভারতের ঝাড়খন্ডে নির্মিত আদানির বিদ্যুৎকেন্দ্র। ঝড়-বৃষ্টিতে কয়লা সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় উৎপাদন ধরে রাখতে পারেনি কেন্দ্রটি। গ্যাসের স্বল্পতা আছে, কয়লা থেকেও উৎপাদন কমে গেছে। কিন্তু তেলচালিত বিদ্যুৎকেন্দ্র সারা দিন চালানো ব্যয়বহুল। সন্ধ্যার পর লোডশেডিং সহনীয় রাখতে উৎপাদন বাড়ানো হচ্ছে। মধ্যরাতের পর উৎপাদন কমানো হচ্ছে এবং লোডশেডিং বেড়ে যাচ্ছে। উৎপাদন বাড়ানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। জনসংযোগ কোম্পানি ফাইভ ডব্লিউ কমিউনিকেশনসের মাধ্যমে মঙ্গলবার রাতে আদানির বিদ্যুৎকেন্দ্রের পক্ষ থেকে জানিয়েছে, ১২ আগস্টের মধ্যে কয়লা সরবরাহ স্বাভাবিক হবে। পিডিবির সদস্য (উৎপাদন) মো. জহুরুল ইসলাম বলেন, গ্যাসের স্বল্পতা আছে, কয়লা থেকেও উৎপাদন কমে গেছে। কিন্তু তেলচালিত বিদ্যুৎকেন্দ্র সারা দিন চালানো ব্যয়বহুল। সন্ধ্যার পর লোডশেডিং সহনীয় রাখতে উৎপাদন বাড়ানো হচ্ছে। মধ্যরাতের পর উৎপাদন কমানো হচ্ছে এবং লোডশেডিং বেড়ে যাচ্ছে। উৎপাদন বাড়ানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। ঢাকার দুই বিদ্যুৎ বিতরণ সংস্থা ডেসকো ও ডিপিডিসি সূত্র বলছে, তাদের বিদ্যুৎ চাহিদায় ঘাটতি নেই। আর ঢাকার বাইরের বাকি চারটি বিতরণ সংস্থার সূত্র বলছে, চাহিদার তুলনায় খুব কম বিদ্যুৎ পাচ্ছে আরইবি, যারা সারা দেশের গ্রামে বিদ্যুৎ সরবরাহ করে। পিডিবি ও আরইবি মিলে ফেনী জেলার বিদ্যুতের চাহিদা রয়েছে ১৪০ মেগাওয়াট। গড়ে প্রতিদিন ঘাটতি ৩০ মেগাওয়াট। ফেনীর স্টারলাইন ফুড প্রোডাক্ট প্রাইভেট লিমিটেডের পরিচালক মো. মাইন উদ্দিন বলেন, কারখানার উৎপাদনে প্রতিদিন গড়ে ৩৫ শতাংশ সময় লোডশেডিং হচ্ছে। ফেনী পল্লী বিদ্যুৎ বিভাগের এজিএম (অপারেশন অ্যান্ড মেইনটেনেন্স) মোহাম্মদ বাইজিদ হোসেন শাহ বলেন, ফেনীতে পল্লী বিদ্যুতের ১৫ শতাংশ ঘাটতি রয়েছে। দিনে তো বিদ্যুৎ থাকেই না, প্রচণ্ড গরমে বিদ্যুৎ চলে গেলে বাচ্চারা ঘুম থেকে উঠে কান্নাকাটি শুরু করে। রাতে একটু ঘুমানোর সুযোগও হচ্ছে না। নেত্রকোনার বাসিন্দা খালিদ বলেন, ২৪ ঘণ্টায় গড়ে ৪ থেকে ৫ ঘণ্টাও বিদ্যুৎ পাওয়া যায় না।  নেত্রকোনা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির মহাব্যবস্থাপক আকরাম হোসেন বলেন, ১৫৮ মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে সরবরাহ হয়েছে ৫৯ মেগাওয়াট। তাই ঘন ঘন লোডশেডিং করতে হচ্ছে। হবিগঞ্জের কোথাও কোথাও প্রায় ১৫ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকছে না। চা–পাতা প্রক্রিয়াজাতকরণের জন্য নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ জরুরি। চুনারুঘাট উপজেলার দেউন্দি চা–বাগানের সহকারী ব্যবস্থাপক দেবাশীষ রায় বলেন, ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুৎ না থাকলে প্রক্রিয়াজাত পাতা নষ্ট হয়। এতে লোকসান গুনতে হচ্ছে বাগানগুলোকে। কেরানীগঞ্জে ধারাবাহিক লোডশেডিংয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। গোলামবাজারের বাসিন্দা হাসান কবির টুটুল বলেন, দিনে তো বিদ্যুৎ থাকেই না, প্রচণ্ড গরমে বিদ্যুৎ চলে গেলে বাচ্চারা ঘুম থেকে উঠে কান্নাকাটি শুরু করে। রাতে একটু ঘুমানোর সুযোগও হচ্ছে না। ঢাকা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-৪ (সদর দপ্তর) মহাব্যবস্থাপক গোলাম কাউসার তালুকদার বলেন, কেরানীগঞ্জে বিদ্যুতের চাহিদা রয়েছে ২৪০ মেগাওয়াট। প্রতিদিন প্রায় ৮০ মেগাওয়াট ঘাটতি থাকছে। দীর্ঘ সময় ধরে লোডশেডিংয়ে নীলফামারীর ডোমার উপজেলার গ্রাহকদের মধ্যে চরম অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। এ পরিস্থিতিতে বিদ্যুৎ স্থাপনা ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছে নীলফামারী পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি। গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোতে নিরাপত্তা জোরদার ও নিয়মিত পুলিশ টহলের ব্যবস্থা চেয়ে থানায় লিখিত আবেদন করেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। ডোমার থানায় দেওয়া লিখিত আবেদনে বলা হয়েছে, জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ উৎপাদন ও সরবরাহের ঘাটতির কারণে বরাদ্দ অনুযায়ী বিভিন্ন এলাকায় লোডশেডিং করে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হচ্ছে। এতে গরমের সময়ে গ্রাহকদের দুর্ভোগ বেড়েছে। পাশাপাশি জনমনে সৃষ্টি হয়েছে অসন্তোষ। এমন পরিস্থিতিতে বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোতে যে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এড়াতে নিরাপত্তা জোরদার করা প্রয়োজন বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়। নীলফামারী জেলা সদরের বাসিন্দা নিলা বলেন, ‘কয়েক দিন ধরি যে গরম পইচ্ছে, তাতে কাজ কাম করা কঠিন হইছে। তার ওপর যোগ হইছে বিদ্যুতের লোডশেডিং। একবার গেইলে আইসার কোনো ঠিক ঠিকানা নাই।’ ডোমার উপজেলা নেসকোর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. নওশাদ আলী বলেন, প্রয়োজনের তুলনায় অর্ধেক বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে। এ কারণে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ১০ ঘণ্টাও বিদ্যুৎ পাচ্ছেন না গ্রাহক।

রক্তচাপ কেড়ে নিতে পারে দৃষ্টিশক্তি

রক্তচাপ কেড়ে নিতে পারে দৃষ্টিশক্তি

চোখের স্ট্রোকের জন্য কি হাইপারটেনশন দায়ী?চোখের চিকিৎসক ডা. সুমন মুখোপাধ্যায় বলেন, ‘হাইপারটেনশনের কারণে চোখের একাধিক ক্ষতি হতে পারে।’ উচ্চ রক্তচাপে চোখের রেটিনার শিরায় ব্লকেজ তৈরি হয়। এর ফলে রক্ত চলাচল ব্যাহত হয়। এই অবস্থাকে ‘সেন্টাল রেটিনাল ভেইন অকুলেশন’ বলা হয়। এটি শিরার পাশাপাশি ধমনীতেও হতে পারে বলে জানিয়েছেন ডা. মুখোপাধ্যায়। আসলে চলতি ভাষায় এই অবস্থাকেই চোখের স্ট্রোক বলা হয়।সিআরভিও-এ কি দৃষ্টিশক্তি হারাতে পারেন?সিআরভিও-এর একাধিক উপসর্গ রয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে কমন হলো- হঠাৎ করে একটা চোখের দৃষ্টি কমে যাওয়া। এছাড়া চোখে রক্তপাত হলে চোখের ভিতর কালো ঝুলের মতো অংশ দেখা যায়।‘সিআরভিও-এর চিকিৎসা হলো ইনজেকশন বা রেটিনাল লেজার’ বলেন ডা. মুখোপাধ্যায়। সিআরভিও হলে দৃষ্টিশক্তি কমে যাওয়া, ঝাপসা দৃষ্টি এবং দৃষ্টিশক্তি হারানোর মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে।হাইপারটেনসিভ রেটিনোপ্যাথি কতটা ক্ষতিকর?ডা. মুখোপাধ্যায়ের সংযোজন, ‘প্রেশার খুব বেশি থাকলে চোখের ভিতর যে অপটিক নার্ভ থাকে, তারও মারাত্মক ক্ষতি হতে পারে।’ এই অবস্থায় চোখে রক্তপাতও হতে পারে। একে চিকিৎসার ভাষায় হাইপারটেনসিভ রেটিনোপ্যাথি বলা হয়।হাইপারটেনসিভ রেটিনোপ্যাথি কি গর্ভবতীদেরও হয়?হাইপারটেনশনে ভয় রয়েছে অন্তঃসত্ত্বা নারীদেরও। অনেক সময় গর্ভাবস্থায় হবু মায়ের ব্লাড প্রেশার অত্যধিক বেড়ে যায়। যাকে বলে প্রেগন্যান্সি হাইপারটেনশন বা ‘একলাম্পসিয়া’। এই অবস্থা তৈরি হলে মস্তিষ্কে রক্তপাত হয়। এই পর্যায়ে পৌঁছনোর ঠিক আগে চোখের উপর প্রভাব পড়ে। দৃষ্টিশক্তি কমে আসে। এই লক্ষণ দেখে বোঝা যায় যে, ‘একলাম্পসিয়া’ খারাপ দিকে এগোচ্ছে ‘অস্ত্রোপচারের সময় প্রেশার কন্ট্রোলে রাখা দরকার কেন?এছাড়া অস্ত্রোপচারের সময় প্রেশার বারবার যাচাই করা দরকার। অনিয়ন্ত্রিত রক্তচাপ থাকা অবস্থায় অস্ত্রোপচার করলে চোখে রক্তপাত হতে পারে এবং চোখ নষ্ট হয়ে যেতে পারে।