হবিগঞ্জ ৫৫ বিজিবির মাদকবিরোধী অভিযান / ৫ লক্ষাধিক মূল্যের ভারতীয় ইয়াবাসহ আটক ১
হবিগঞ্জে মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযান চালিয়ে ১ হাজার ৭১০ পিস ভারতীয় ইয়াবাসহ মো. আব্দুর রহমান (৪৫) নামে এক ব্যক্তিকে আটক করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। এ সময় তার কাছ থেকে একটি বাইসাইকেলও জব্দ করা হয়। জব্দ করা ইয়াবার আনুমানিক মূল্য ৫ লাখ ১৮ হাজার টাকা বলে জানিয়েছে বিজিবি।বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে হবিগঞ্জ ব্যাটালিয়ন (৫৫ বিজিবি) এর সিন্দুরখান বিওপির দায়িত্বপূর্ণ এলাকার ইসলামপুরে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।বিজিবি সূত্র জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সিন্দুরখান বিওপির একটি টহলদল ইসলামপুর এলাকায় মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযান চালায়। এ সময় সন্দেহভাজন এক ব্যক্তিকে আটক করে তল্লাশি করা হলে তার কাছ থেকে ১ হাজার ৭১০ পিস ভারতীয় ইয়াবা ও একটি বাইসাইকেল উদ্ধার করা হয়।আটক মো. আব্দুর রহমান মৌলভীবাজার জেলার শ্রীমঙ্গল থানার কুঞ্জবন গ্রামের বাসিন্দা। তার বাবার নাম মৃত কচির উল্লাহ।বিজিবি জানিয়েছে, সীমান্ত সুরক্ষার পাশাপাশি মাদক ও চোরাচালান প্রতিরোধে নিয়মিতভাবে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। মাদক পাচারের সঙ্গে জড়িত চক্রকে শনাক্ত ও আটক করতে বিজিবির গোয়েন্দা তৎপরতাও অব্যাহত রয়েছে। হবিগঞ্জ ৫৫ বিজিবি ব্যাটালিয়ানের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল তানজিলুর রহমান বলেন, দেশের যুবসমাজকে মাদকের ভয়াল গ্রাস থেকে রক্ষা এবং সীমান্ত এলাকায় চোরাচালান প্রতিরোধে এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে। একই সঙ্গে মাদক ও চোরাচালানমুক্ত সমাজ গঠনে স্থানীয় জনগণসহ সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতা প্রয়োজন।
ধাওয়া খেয়ে ৫ জন ঝাঁপ দিলেন নদীতে, নিখোঁজ ১
গাজীপুর মহানগরীর কাউলতিয়ায় একদল যুবকের ধাওয়া খেয়ে তুরাগ নদীতে ঝাঁপ দিয়ে মোয়াজ্জেম হোসেন (৪৫) নামের ১ ব্যক্তি নিখোঁজ হয়েছেন। এ সময় তাঁর সঙ্গে থাকা আরও ৪ জন তীরে উঠতে সক্ষম হয়েছেন। গতকাল বুধবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে কাউলতিয়া কারখানা বাজারের দক্ষিণ পাশে এ ঘটনা ঘটে। নিখোঁজ মোয়াজ্জেম হোসেন খালিশা বার্তা এলাকার মোহাম্মদ আলী মেম্বারের ছেলে। মোয়াজ্জেমের চাচাতো ভাই দেলোয়ার হোসেন বলেন, মোয়াজ্জেমসহ ৫ জন তুরাগ নদীতে একটি ট্রলারের ওপর বসেছিলেন। এ সময় ৫-৬ জন যুবক সেখানে গিয়ে তাঁদের ট্রলার থেকে নেমে আসতে বলেন। নেমে না এলে গুলি করার হুমকি দেওয়া হয়। একপর্যায়ে ভয়ে ৫ জনই ট্রলার থেকে নদীতে ঝাঁপ দেন। পরে ৪ জন তীরে উঠতে পারলেও মোয়াজ্জেম নিখোঁজ হন। খবর পেয়ে স্থানীয়রা নদীতে উদ্ধার অভিযান চালান। তাঁর সন্ধান না পেয়ে ফায়ার সার্ভিসে খবর দেওয়া হয়। পরে গাজীপুর ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। গাজীপুর সদর মেট্রো থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, নদীতে ঝাঁপ দিয়ে একজন নিখোঁজ থাকার খবর পাওয়া গেছে। ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
কুমিল্লায় গ্যাসের জন্য মহাসড়কে পণ্যবোঝাই গাড়ির দীর্ঘ লাইন, বন্ধ আঞ্চলিক গণপরিবহন
কুমিল্লার মহাসড়কসংলগ্ন সিএনজি ফিলিং স্টেশনগুলোতে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ থাকায় শত শত পণ্যবোঝাই কাভার্ডভ্যান, ট্রাক, লরি ও আঞ্চলিক গণপরিবহন দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে আছে। আজ বৃহস্পতিবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত চৌদ্দগ্রাম থেকে কুমিল্লার পদুয়ার বাজার পর্যন্ত ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে। গ্যাস সংকটে ফেনী ও কুমিল্লার আঞ্চলিক সড়কের অধিকাংশ গণপরিবহনও প্রায় বন্ধ। গতকাল বুধবার দুপুরে গাজীপুর থেকে গার্মেন্টস পণ্যবোঝাই করে চট্টগ্রাম বন্দরের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হন কাভার্ডভ্যান চালক জয়নাল আবেদীন। রাতের বেলা কুমিল্লার অংশে প্রবেশ করলে তাঁর গাড়ির গ্যাস শেষ হয়ে যায়। গ্যাস নেওয়ার জন্য তিনি কুমিল্লার সদর দক্ষিণ উপজেলার এডভান্স সিএনজি ফিলিং স্টেশনে প্রবেশ করেন। আজ দুপুর গড়িয়ে গেলেও তিনি গ্যাস পাননি। জয়নাল আবেদীন বলেন, ‘বুধবার রাত ২টা থেকে গ্যাসের জন্য পাম্পে দাঁড়িয়ে আছি, আজও গ্যাস পাইনি।’ সময়মতো বন্দরে পণ্য পৌঁছাতে না পারলে শিপমেন্ট বাতিল হয়ে যেতে পারে বলেও তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন। সরেজমিনে দেখা যায়, মহাসড়কের দুই লেনের পাশে থাকা সিএনজি ফিলিং স্টেশনগুলোতে শত শত পণ্যবোঝাই কাভার্ডভ্যান, ট্রাক, লরি ও আঞ্চলিক গণপরিবহন গ্যাসের জন্য অপেক্ষা করছে। কোনো স্টেশনেই গ্যাস না পাওয়ায় গাড়ির লাইন আরও দীর্ঘ হচ্ছে। স্থানীয় সূত্র জানায়, গত শুক্রবার থেকে বুধবার দুপুর পর্যন্ত গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক থাকলেও কোনো আগাম ঘোষণা ছাড়াই বুধবার দুপুর থেকে আবারও গ্যাস সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। এতে হঠাৎ করেই গ্যাসচালিত পরিবহন সংকটে পড়ে। আজ দুপুরে সদর দক্ষিণ উপজেলার তাজ সিএনজি ফিলিং স্টেশনে গিয়ে পণ্যবোঝাই গাড়ির দীর্ঘ লাইন দেখা যায়। সেখানে আবদুল খালেক নামে এক লরি চালক বলেন, রাতে চট্টগ্রাম ইপিজেড থেকে পণ্য নিয়ে বিমানবন্দরের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হন তিনি। পথিমধ্যে গ্যাস শেষ হয়ে যাওয়ায় ওই স্টেশনে ঢুকলেও গ্যাস পাননি। আবদুল খালেক বলেন, ‘কখন গ্যাস পাব, তাও জানি না। সঠিক সময়ে মালামাল নিয়ে গন্তব্যে পৌঁছাতে পারব কিনা তাও জানি না।’ গ্যাস সংকটের প্রভাব পড়েছে আঞ্চলিক গণপরিবহনেও। ফেনী ও কুমিল্লার আঞ্চলিক সড়কের অধিকাংশ গণপরিবহন বন্ধ হয়ে যাওয়ায় দুই জেলার যাত্রীদের দুর্ভোগ বেড়েছে। বিশেষ করে অফিসগামী কর্মকর্তা, কলেজপড়ুয়া শিক্ষার্থী এবং চিকিৎসাসেবা নিতে যাওয়া রোগীদের ভোগান্তি বেশি হচ্ছে। চৌদ্দগ্রাম বাজারে গণপরিবহনের জন্য অপেক্ষারত ইকবাল হোসেন বলেন, ‘আমার নিকটাত্মীয় কুমিল্লার একটি হাসপাতালে ভর্তি। তাঁকে দেখতে যাওয়া জরুরী। তাঁর অবস্থা আশঙ্কাজনক। কিন্তু যাওয়ার মতো কোন গণপরিবহন পাচ্ছি না। গ্যাস সংকটের কারণে অধিকাংশ গাড়ি বন্ধ।’ চৌদ্দগ্রাম ট্রান্সপোর্ট নামে কাভার্ডভ্যানের মালিক ওবায়েদ পাটোয়ারী বলেন, গ্যাস সংকটের কারণে তাঁদের গাড়ির খরচ বেড়েছে। তিনি বলেন, ‘যে গাড়ি পণ্য নিয়ে ২৪ ঘন্টার মধ্যে গন্তব্যে পৌঁছাতে পারে, সে গাড়ি এখন তিনদিনেও গন্তব্যে পৌঁছাতে পারছে না। আমার বেশ কয়েকটি গাড়ির অধিকাংশই গ্যাসের জন্য বিভিন্ন স্টেশনে দাঁড়িয়ে আছে। ফেনী-কুমিল্লা সড়কে চলাচলকারী আঞ্চলিক পরিবহন যমুনা মালিক সমিতির সভাপতি খোরশেদ আলম বলেন, হঠাৎ গ্যাস সংকটে অধিকাংশ গণপরিবহন বন্ধ হয়ে পড়েছে। এতে গাড়ির সংকট তৈরি হয়েছে। গণপরিবহন সংকটে দুই জেলার মানুষের চরম ভোগান্তি হচ্ছে, বিশেষ করে রোগী ও কলেজ শিক্ষার্থীদের। খোরশেদ আলম সরকারের প্রতি দাবি জানিয়ে বলেন, ‘অন্তত গণপরিবহনগুলো সচল রাখার জন্য গ্যাস সরবরাহ যেন অব্যাহত রাখে।’ এ বিষয়ে বাখরাবাদ গ্যাস বিপণন বিভাগের মহাব্যবস্থাপক প্রকৌশলী মুর্তজা রহমান খানের সঙ্গে বার বার যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাঁকে পাওয়া যায়নি।
প্রতিদিনের বাংলাদেশ