জনমত ২৪

সারাদেশ

ছাত্রলীগ করার অভিযোগে

মাধবপুরে ফ্যামিলি কার্ডের শুমারি থেকে ৪ তথ্য সংগ্রহকারীর নিয়োগ বাতিল

মাধবপুরে ফ্যামিলি কার্ডের শুমারি থেকে ৪ তথ্য সংগ্রহকারীর নিয়োগ বাতিল
মৌখিকভাবে নিয়োগ বাতিল হওয়া ৪ তথ্য সংগ্রহকারী

হবিগঞ্জের মাধবপুরে ফ্যামিলি কার্ডের শুমারি কার্যক্রমে পরীক্ষায় উত্তীর্ণ ৪ গণনাকারীকে ছাত্রলীগের সঙ্গে সম্পৃক্ততা ও সাবেক এমপি ব্যারিস্টার সুমনের ঘনিষ্ঠতার অভিযোগে মৌখিকভাবে কাজে অংশ না নিতে বলা হয়েছে বলে জানা গেছে।

বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) সকালে সংশ্লিষ্টদের ফোন করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়ে ডেকে নেওয়া হয়। পরে তাদের শুমারি কার্যক্রমে অংশ না নিতে বলা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তারা। এ সময় বিভিন্ন স্থানে ছাত্রলীগ-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নিয়োগ দেওয়াকে কেন্দ্র করে মব ও বিরূপ পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে—এমন আশঙ্কার কথা জানানো হয় বলে তারা দাবি করেন।

বাদ দেওয়ার অভিযোগ ওঠা ৪ জন হলেন—শেখ ইমন আহমেদ, ইমরান আলী পাঠান, অপুর রায় চৌধুরী ও শাহ আলম হৃদয়।

অভিযোগ রয়েছে, শেখ ইমন আহমেদ মাধবপুরের আন্দিউরা ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি প্রার্থী ছিলেন। তিনি আন্দিউরা ইউনিয়নের গণনাকারী হিসেবে নির্বাচিত হন। যদিও শেখ ইমন আহমেদের দাবি এআই দিয়ে তার বিরুদ্ধে এসব অপপ্রচার করা হচ্ছে।

ইমরান আলী পাঠান উপজেলা ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। তিনি মাধবপুর পৌরসভার গণনাকারী হিসেবে নির্বাচিত হন।

অপুর রায় চৌধুরী আদাঐর ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি ছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। তিনি অপেক্ষমাণ তালিকা থেকে ফ্যামিলি কার্ডের গণনাকারী হিসেবে উত্তীর্ণ হন।

অন্যদিকে শাহ আলম হৃদয় ২ নম্বর চৌমুহনী ইউনিয়নের গণনাকারী হিসেবে উত্তীর্ণ হন। তিনি জুলাই আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত থাকলেও ব্যারিস্টার সুমনের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত—এমন অভিযোগ রয়েছে।

শাহ আলম হৃদয় বলেন, “আমি এখনো আশায় আছি, আমি আশাবাদী—আমি কাজ করতে পারব। মেধা পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছি, আমাকে বাদ দেওয়া হবে কেন? আমি মাননীয় এমপির কাছে ন্যায়বিচার চাই।”

মাধবপুর মডেল প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ফরাশউদ্দীন বলেন, “প্রশাসনকে স্বাধীনভাবে কাজ করতে দিতে হবে। ফ্যামিলি কার্ডের শুমারি একটি গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রম। এখানে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি মব আতঙ্ক থেকে প্রশাসনকে মুক্ত থাকতে হবে। এত কিছু যদি করতেই হয়, তাহলে পরীক্ষা নেওয়া হলো কেন?”

এ বিষয়ে মাধবপুরের ইউএনও মেহেদী হাসান বলেন, “আমরা বাছাই কমিটির সর্বোচ্চ স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার চেষ্টা করছি।” তবে চারজনকে বাদ দেওয়ার বিষয়ে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

মাধবপুর উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা ও ফ্যামিলি কার্ড শুমারি কমিটির সদস্যসচিব মোহাম্মদ শাকিফ ইশমাম চৌধুরীর কাছে ৪ জনকে বাতিলের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনিও কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। পরবর্তীতে তার অফিসে গিয়েও তাকে পাওয়া যায়নি।

0.0%
0.0%
0.0%
0.0%

মতামত

জনমত ২৪

বৃহস্পতিবার, ১৩ আগস্ট ২০২৬


মাধবপুরে ফ্যামিলি কার্ডের শুমারি থেকে ৪ তথ্য সংগ্রহকারীর নিয়োগ বাতিল

প্রকাশের তারিখ : ১৩ আগস্ট ২০২৬

featured Image

হবিগঞ্জের মাধবপুরে ফ্যামিলি কার্ডের শুমারি কার্যক্রমে পরীক্ষায় উত্তীর্ণ ৪ গণনাকারীকে ছাত্রলীগের সঙ্গে সম্পৃক্ততা ও সাবেক এমপি ব্যারিস্টার সুমনের ঘনিষ্ঠতার অভিযোগে মৌখিকভাবে কাজে অংশ না নিতে বলা হয়েছে বলে জানা গেছে।

বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) সকালে সংশ্লিষ্টদের ফোন করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়ে ডেকে নেওয়া হয়। পরে তাদের শুমারি কার্যক্রমে অংশ না নিতে বলা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তারা। এ সময় বিভিন্ন স্থানে ছাত্রলীগ-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নিয়োগ দেওয়াকে কেন্দ্র করে মব ও বিরূপ পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে—এমন আশঙ্কার কথা জানানো হয় বলে তারা দাবি করেন।

বাদ দেওয়ার অভিযোগ ওঠা ৪ জন হলেন—শেখ ইমন আহমেদ, ইমরান আলী পাঠান, অপুর রায় চৌধুরী ও শাহ আলম হৃদয়।

অভিযোগ রয়েছে, শেখ ইমন আহমেদ মাধবপুরের আন্দিউরা ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি প্রার্থী ছিলেন। তিনি আন্দিউরা ইউনিয়নের গণনাকারী হিসেবে নির্বাচিত হন। যদিও শেখ ইমন আহমেদের দাবি এআই দিয়ে তার বিরুদ্ধে এসব অপপ্রচার করা হচ্ছে।

ইমরান আলী পাঠান উপজেলা ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। তিনি মাধবপুর পৌরসভার গণনাকারী হিসেবে নির্বাচিত হন।

অপুর রায় চৌধুরী আদাঐর ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি ছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। তিনি অপেক্ষমাণ তালিকা থেকে ফ্যামিলি কার্ডের গণনাকারী হিসেবে উত্তীর্ণ হন।

অন্যদিকে শাহ আলম হৃদয় ২ নম্বর চৌমুহনী ইউনিয়নের গণনাকারী হিসেবে উত্তীর্ণ হন। তিনি জুলাই আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত থাকলেও ব্যারিস্টার সুমনের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত—এমন অভিযোগ রয়েছে।

শাহ আলম হৃদয় বলেন, “আমি এখনো আশায় আছি, আমি আশাবাদী—আমি কাজ করতে পারব। মেধা পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছি, আমাকে বাদ দেওয়া হবে কেন? আমি মাননীয় এমপির কাছে ন্যায়বিচার চাই।”

মাধবপুর মডেল প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ফরাশউদ্দীন বলেন, “প্রশাসনকে স্বাধীনভাবে কাজ করতে দিতে হবে। ফ্যামিলি কার্ডের শুমারি একটি গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রম। এখানে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি মব আতঙ্ক থেকে প্রশাসনকে মুক্ত থাকতে হবে। এত কিছু যদি করতেই হয়, তাহলে পরীক্ষা নেওয়া হলো কেন?”

এ বিষয়ে মাধবপুরের ইউএনও মেহেদী হাসান বলেন, “আমরা বাছাই কমিটির সর্বোচ্চ স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার চেষ্টা করছি।” তবে চারজনকে বাদ দেওয়ার বিষয়ে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

মাধবপুর উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা ও ফ্যামিলি কার্ড শুমারি কমিটির সদস্যসচিব মোহাম্মদ শাকিফ ইশমাম চৌধুরীর কাছে ৪ জনকে বাতিলের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনিও কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। পরবর্তীতে তার অফিসে গিয়েও তাকে পাওয়া যায়নি।


জনমত ২৪

সম্পাদক ও প্রকাশক : রায়হান আহমেদ
কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত জনমত
মাধবপুরে ফ্যামিলি কার্ডের শুমারি থেকে ৪ তথ্য সংগ্রহকারীর নিয়োগ বাতিল
0:00 0:00
1.0x