জনমত ২৪

সারাদেশ

হবিগঞ্জে তীব্র গ্যাস সংকট, শিল্প কারখানায় উৎপাদন বন্ধ

রায়হান আহমেদ
রায়হান আহমেদ
প্রকাশ : ১৪ আগস্ট ২০২৬ | প্রিন্ট সংস্করণ
হবিগঞ্জে তীব্র গ্যাস সংকট, শিল্প কারখানায় উৎপাদন বন্ধ

হবিগঞ্জে তীব্র গ্যাস সংকটে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে শিল্প খাত। গত ১৫ দিন ধরে চাহিদার তুলনায় এক-তৃতীয়াংশ থেকে এক-চতুর্থাংশ গ্যাস সরবরাহ পাওয়ার পর বুধবার থেকে জেলার অধিকাংশ শিল্পকারখানায় গ্যাস সরবরাহ প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। এতে ছোট-বড় দেড় শতাধিক শিল্পপ্রতিষ্ঠানের উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। কর্মহীন হয়ে পড়েছেন এসব প্রতিষ্ঠানের বিপুলসংখ্যক শ্রমিক, কর্মকর্তা ও কর্মচারী।

শিল্প উদ্যোক্তাদের দাবি, গ্যাস সরবরাহ বন্ধ থাকায় প্রতিদিন বিপুল অঙ্কের উৎপাদন ক্ষতি হচ্ছে। সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছে রপ্তানিমুখী প্রতিষ্ঠানগুলো। উৎপাদন বন্ধ থাকায় নির্ধারিত সময়ে বিদেশি ক্রেতাদের পণ্য সরবরাহ করা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। সময়মতো শিপমেন্ট দিতে না পারলে ক্রেতাদের অর্ডার বাতিলের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোর ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা করছেন উদ্যোক্তারা।

হবিগঞ্জের যমুনা ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্কে রয়েছে ছয়টি কারখানা। এর মধ্যে টায়ার ও পাওয়ার প্লান্ট ছাড়া বাকি চারটি প্রতিষ্ঠান শতভাগ রপ্তানিমুখী। পার্কটির মহাব্যবস্থাপক (প্রকৌশল) আবুল হোসেন জানান— সেখানে শ্রমিক, কর্মকর্তা ও কর্মচারী মিলিয়ে প্রায় ১২ হাজার মানুষ কাজ করেন। কারখানাগুলোর দৈনিক অনুমোদিত গ্যাসের চাহিদা ১৩ দশমিক ৬ স্ট্যান্ডার্ড মিলিয়ন ঘনফুট (এমএমসিএফ)। অথচ বেশ কিছুদিন ধরে মাত্র ৩ এমএমসিএফ গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছিল। এতে উৎপাদন চালিয়ে নেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। বুধবার (১২ আগস্ট) রাত ১২টা থেকে গ্যাস সরবরাহ প্রায় পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে।

স্টার সিরামিকসের প্রশাসন বিভাগের কর্মকর্তা পল্লব জানান, তাঁদের প্রতিষ্ঠানেও বেশ কিছুদিন ধরে চাহিদার এক-তৃতীয়াংশ থেকে এক-চতুর্থাংশ গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছিল। বুধবার দুপুর থেকে সরবরাহ প্রায় পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় উৎপাদন বন্ধ রয়েছে। এতে নির্ধারিত সময়ে বিদেশি ক্রেতাদের পণ্য পাঠানো নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

এসএম স্পিনিংয়ের মহাব্যবস্থাপক আবুল বাশার জানান, তাঁদের প্রতিষ্ঠানে সাড়ে ১৩ হাজার শ্রমিক, কর্মকর্তা ও কর্মচারী কাজ করেন। বুধবার বিকেল পৌনে ৪টা থেকে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। আগে প্রতিদিন প্রায় ৩৮ হাজার মেট্রিক টন সুতা উৎপাদন হতো। উৎপাদন বন্ধ থাকায় প্রতিদিন প্রায় ১ লাখ ২১ হাজার ৬০০ ডলার, বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় দেড় কোটি টাকার ক্ষতি হচ্ছে বলে জানান তিনি।

হবিগঞ্জ ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্কের (প্রাণ-আরএফএল গ্রুপ) মহাব্যবস্থাপক দীপক কুমার দেব বলেন, তাঁদের প্রতিষ্ঠানে প্রায় ৩৫ হাজার শ্রমিক, কর্মকর্তা ও কর্মচারী রয়েছেন। কয়েক দিন ধরে গ্যাস সংকট চললেও বুধবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে সরবরাহ একেবারে শূন্য হয়ে যায়। এতে শিল্পপার্কের সব কারখানার উৎপাদন বন্ধ রয়েছে।

স্কয়ার ডেনিমের মহাব্যবস্থাপক আব্দুল মাজেদ বলেন, তাঁদের দৈনিক গ্যাসের চাহিদা ২০ মেগাওয়াট। বুধবার বিকেল ৩টা থেকে গ্যাস সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে। এতে প্রায় তিন হাজার শ্রমিক কর্মহীন হয়ে পড়েছেন। প্রতিষ্ঠানটি শতভাগ রপ্তানিমুখী হওয়ায় বিদেশি ক্রেতাদের অর্ডার নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

তিনি বলেন, বিদেশি ক্রেতাদের কাছ থেকে নেওয়া অর্ডারের পণ্য এখন উৎপাদন করা যাচ্ছে না। নির্ধারিত সময়ে শিপমেন্ট দিতে ব্যর্থ হলে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিষ্ঠানের সুনাম ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। দীর্ঘমেয়াদে বিদেশি ক্রেতারা মুখ ফিরিয়ে নেওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে।

কারখানার শ্রমিক-কর্মচারীরাও পড়েছেন অনিশ্চয়তায়। স্থানীয় একটি শিল্পপ্রতিষ্ঠানের কর্মচারী করিম হোসেন বলেন, কয়েক দিন ধরেই গ্যাসের চাপ কম থাকায় স্বাভাবিক উৎপাদন করা যাচ্ছিল না। এখন পুরোপুরি সরবরাহ বন্ধ হওয়ায় কারখানার কাজও বন্ধ। শ্রমিক-কর্মচারীরা কর্মস্থলে এসে অলস সময় পার করছেন। এ অবস্থা দীর্ঘায়িত হলে তাঁদের আয়-রোজগার ও সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়বে।

শিল্পপ্রতিষ্ঠানের কয়েকজন কর্মকর্তার অভিযোগ, হবিগঞ্জের সব শিল্পকারখানায় সমানভাবে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ করা হয়নি। কিছু প্রতিষ্ঠানে এখনো গ্যাস সরবরাহ রয়েছে। তাঁদের প্রশ্ন, সংকট যদি জাতীয় পর্যায়ের হয়, তাহলে সব শিল্পপ্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে একই নীতি প্রয়োগ করা হচ্ছে না কেন। এ ধরনের বৈষম্য শিল্প খাতে নতুন সংকট তৈরি করছে বলেও অভিযোগ তাঁদের।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, হবিগঞ্জে ছোট-বড় মিলিয়ে দেড় শতাধিক শিল্পপ্রতিষ্ঠান রয়েছে। এর মধ্যে অর্ধশতাধিক প্রতিষ্ঠান শতভাগ রপ্তানিমুখী। আরও কিছু প্রতিষ্ঠান আংশিকভাবে রপ্তানি করে। এসব প্রতিষ্ঠানের বড় একটি অংশ ক্যাপটিভ পাওয়ার প্লান্টের মাধ্যমে নিজস্ব বিদ্যুৎ উৎপাদন করে। গ্যাস সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ক্যাপটিভ পাওয়ার প্লান্টও বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে একই সঙ্গে বিদ্যুৎ ও উৎপাদন—দুই দিক থেকেই বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে শিল্পকারখানাগুলো।

উদ্যোক্তারা জানান, জুলাইয়ের মাঝামাঝি থেকে হবিগঞ্জে গ্যাস সংকট শুরু হয়। প্রথমদিকে চাহিদার তুলনায় এক-তৃতীয়াংশ বা এক-চতুর্থাংশ গ্যাস সরবরাহ করা হলেও কোনোভাবে উৎপাদন চালু রাখা হয়েছিল। কিন্তু বুধবার থেকে সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নিয়েছে।

শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোর সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সাম্প্রতিক সময়ে জালালাবাদ গ্যাস টি অ্যান্ড ডি সিস্টেম লিমিটেড গ্যাস সরবরাহ কমানো বা বন্ধের বিষয়ে একাধিক চিঠি দিয়েছে। তবে কেন সরবরাহ কমানো বা বন্ধ করা হচ্ছে, সে বিষয়ে চিঠিগুলোতে স্পষ্ট কোনো কারণ উল্লেখ করা হয়নি বলে দাবি শিল্প উদ্যোক্তাদের।

জালালাবাদ গ্যাস টি অ্যান্ড ডি সিস্টেম লিমিটেডের উপ মহাব্যবস্থাপক মো. রুহুল করিম চৌধুরী বলেন, গ্যাস সংকট জাতীয় সমস্যা। জুলাইয়ের শেষ সপ্তাহ থেকেই এ সংকট শুরু হয়েছে। এ বিষয়ে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তিও দেওয়া হয়েছে। বিদ্যুৎ উৎপাদনকেন্দ্রগুলোতে গ্যাসের সরবরাহ বাড়ানোর কারণে শিল্পকারখানায় সরবরাহ কমাতে হয়েছে। তবে আগামী তিন থেকে চার দিনের মধ্যে পরিস্থিতির উন্নতি হতে পারে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

তবে গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক না হলে পরিস্থিতি আরও জটিল হওয়ার আশঙ্কা করছেন শিল্প উদ্যোক্তারা। তাঁদের মতে, দীর্ঘ সময় উৎপাদন বন্ধ থাকলে শুধু শিল্পপ্রতিষ্ঠান নয়, এর প্রভাব পড়বে শ্রমিকদের কর্মসংস্থান, রপ্তানি আয়, বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন এবং আন্তর্জাতিক বাজারে দেশের শিল্পপণ্যের গ্রহণযোগ্যতার ওপর। তাই দ্রুত গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক করার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।

0.0%
0.0%
0.0%
0.0%
জনমত ২৪

শুক্রবার, ১৪ আগস্ট ২০২৬


হবিগঞ্জে তীব্র গ্যাস সংকট, শিল্প কারখানায় উৎপাদন বন্ধ

প্রকাশের তারিখ : ১৪ আগস্ট ২০২৬

featured Image

হবিগঞ্জে তীব্র গ্যাস সংকটে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে শিল্প খাত। গত ১৫ দিন ধরে চাহিদার তুলনায় এক-তৃতীয়াংশ থেকে এক-চতুর্থাংশ গ্যাস সরবরাহ পাওয়ার পর বুধবার থেকে জেলার অধিকাংশ শিল্পকারখানায় গ্যাস সরবরাহ প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। এতে ছোট-বড় দেড় শতাধিক শিল্পপ্রতিষ্ঠানের উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। কর্মহীন হয়ে পড়েছেন এসব প্রতিষ্ঠানের বিপুলসংখ্যক শ্রমিক, কর্মকর্তা ও কর্মচারী।

শিল্প উদ্যোক্তাদের দাবি, গ্যাস সরবরাহ বন্ধ থাকায় প্রতিদিন বিপুল অঙ্কের উৎপাদন ক্ষতি হচ্ছে। সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছে রপ্তানিমুখী প্রতিষ্ঠানগুলো। উৎপাদন বন্ধ থাকায় নির্ধারিত সময়ে বিদেশি ক্রেতাদের পণ্য সরবরাহ করা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। সময়মতো শিপমেন্ট দিতে না পারলে ক্রেতাদের অর্ডার বাতিলের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোর ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা করছেন উদ্যোক্তারা।

হবিগঞ্জের যমুনা ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্কে রয়েছে ছয়টি কারখানা। এর মধ্যে টায়ার ও পাওয়ার প্লান্ট ছাড়া বাকি চারটি প্রতিষ্ঠান শতভাগ রপ্তানিমুখী। পার্কটির মহাব্যবস্থাপক (প্রকৌশল) আবুল হোসেন জানান— সেখানে শ্রমিক, কর্মকর্তা ও কর্মচারী মিলিয়ে প্রায় ১২ হাজার মানুষ কাজ করেন। কারখানাগুলোর দৈনিক অনুমোদিত গ্যাসের চাহিদা ১৩ দশমিক ৬ স্ট্যান্ডার্ড মিলিয়ন ঘনফুট (এমএমসিএফ)। অথচ বেশ কিছুদিন ধরে মাত্র ৩ এমএমসিএফ গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছিল। এতে উৎপাদন চালিয়ে নেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। বুধবার (১২ আগস্ট) রাত ১২টা থেকে গ্যাস সরবরাহ প্রায় পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে।

স্টার সিরামিকসের প্রশাসন বিভাগের কর্মকর্তা পল্লব জানান, তাঁদের প্রতিষ্ঠানেও বেশ কিছুদিন ধরে চাহিদার এক-তৃতীয়াংশ থেকে এক-চতুর্থাংশ গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছিল। বুধবার দুপুর থেকে সরবরাহ প্রায় পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় উৎপাদন বন্ধ রয়েছে। এতে নির্ধারিত সময়ে বিদেশি ক্রেতাদের পণ্য পাঠানো নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

এসএম স্পিনিংয়ের মহাব্যবস্থাপক আবুল বাশার জানান, তাঁদের প্রতিষ্ঠানে সাড়ে ১৩ হাজার শ্রমিক, কর্মকর্তা ও কর্মচারী কাজ করেন। বুধবার বিকেল পৌনে ৪টা থেকে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। আগে প্রতিদিন প্রায় ৩৮ হাজার মেট্রিক টন সুতা উৎপাদন হতো। উৎপাদন বন্ধ থাকায় প্রতিদিন প্রায় ১ লাখ ২১ হাজার ৬০০ ডলার, বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় দেড় কোটি টাকার ক্ষতি হচ্ছে বলে জানান তিনি।

হবিগঞ্জ ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্কের (প্রাণ-আরএফএল গ্রুপ) মহাব্যবস্থাপক দীপক কুমার দেব বলেন, তাঁদের প্রতিষ্ঠানে প্রায় ৩৫ হাজার শ্রমিক, কর্মকর্তা ও কর্মচারী রয়েছেন। কয়েক দিন ধরে গ্যাস সংকট চললেও বুধবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে সরবরাহ একেবারে শূন্য হয়ে যায়। এতে শিল্পপার্কের সব কারখানার উৎপাদন বন্ধ রয়েছে।

স্কয়ার ডেনিমের মহাব্যবস্থাপক আব্দুল মাজেদ বলেন, তাঁদের দৈনিক গ্যাসের চাহিদা ২০ মেগাওয়াট। বুধবার বিকেল ৩টা থেকে গ্যাস সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে। এতে প্রায় তিন হাজার শ্রমিক কর্মহীন হয়ে পড়েছেন। প্রতিষ্ঠানটি শতভাগ রপ্তানিমুখী হওয়ায় বিদেশি ক্রেতাদের অর্ডার নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

তিনি বলেন, বিদেশি ক্রেতাদের কাছ থেকে নেওয়া অর্ডারের পণ্য এখন উৎপাদন করা যাচ্ছে না। নির্ধারিত সময়ে শিপমেন্ট দিতে ব্যর্থ হলে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিষ্ঠানের সুনাম ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। দীর্ঘমেয়াদে বিদেশি ক্রেতারা মুখ ফিরিয়ে নেওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে।

কারখানার শ্রমিক-কর্মচারীরাও পড়েছেন অনিশ্চয়তায়। স্থানীয় একটি শিল্পপ্রতিষ্ঠানের কর্মচারী করিম হোসেন বলেন, কয়েক দিন ধরেই গ্যাসের চাপ কম থাকায় স্বাভাবিক উৎপাদন করা যাচ্ছিল না। এখন পুরোপুরি সরবরাহ বন্ধ হওয়ায় কারখানার কাজও বন্ধ। শ্রমিক-কর্মচারীরা কর্মস্থলে এসে অলস সময় পার করছেন। এ অবস্থা দীর্ঘায়িত হলে তাঁদের আয়-রোজগার ও সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়বে।

শিল্পপ্রতিষ্ঠানের কয়েকজন কর্মকর্তার অভিযোগ, হবিগঞ্জের সব শিল্পকারখানায় সমানভাবে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ করা হয়নি। কিছু প্রতিষ্ঠানে এখনো গ্যাস সরবরাহ রয়েছে। তাঁদের প্রশ্ন, সংকট যদি জাতীয় পর্যায়ের হয়, তাহলে সব শিল্পপ্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে একই নীতি প্রয়োগ করা হচ্ছে না কেন। এ ধরনের বৈষম্য শিল্প খাতে নতুন সংকট তৈরি করছে বলেও অভিযোগ তাঁদের।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, হবিগঞ্জে ছোট-বড় মিলিয়ে দেড় শতাধিক শিল্পপ্রতিষ্ঠান রয়েছে। এর মধ্যে অর্ধশতাধিক প্রতিষ্ঠান শতভাগ রপ্তানিমুখী। আরও কিছু প্রতিষ্ঠান আংশিকভাবে রপ্তানি করে। এসব প্রতিষ্ঠানের বড় একটি অংশ ক্যাপটিভ পাওয়ার প্লান্টের মাধ্যমে নিজস্ব বিদ্যুৎ উৎপাদন করে। গ্যাস সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ক্যাপটিভ পাওয়ার প্লান্টও বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে একই সঙ্গে বিদ্যুৎ ও উৎপাদন—দুই দিক থেকেই বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে শিল্পকারখানাগুলো।

উদ্যোক্তারা জানান, জুলাইয়ের মাঝামাঝি থেকে হবিগঞ্জে গ্যাস সংকট শুরু হয়। প্রথমদিকে চাহিদার তুলনায় এক-তৃতীয়াংশ বা এক-চতুর্থাংশ গ্যাস সরবরাহ করা হলেও কোনোভাবে উৎপাদন চালু রাখা হয়েছিল। কিন্তু বুধবার থেকে সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নিয়েছে।

শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোর সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সাম্প্রতিক সময়ে জালালাবাদ গ্যাস টি অ্যান্ড ডি সিস্টেম লিমিটেড গ্যাস সরবরাহ কমানো বা বন্ধের বিষয়ে একাধিক চিঠি দিয়েছে। তবে কেন সরবরাহ কমানো বা বন্ধ করা হচ্ছে, সে বিষয়ে চিঠিগুলোতে স্পষ্ট কোনো কারণ উল্লেখ করা হয়নি বলে দাবি শিল্প উদ্যোক্তাদের।

জালালাবাদ গ্যাস টি অ্যান্ড ডি সিস্টেম লিমিটেডের উপ মহাব্যবস্থাপক মো. রুহুল করিম চৌধুরী বলেন, গ্যাস সংকট জাতীয় সমস্যা। জুলাইয়ের শেষ সপ্তাহ থেকেই এ সংকট শুরু হয়েছে। এ বিষয়ে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তিও দেওয়া হয়েছে। বিদ্যুৎ উৎপাদনকেন্দ্রগুলোতে গ্যাসের সরবরাহ বাড়ানোর কারণে শিল্পকারখানায় সরবরাহ কমাতে হয়েছে। তবে আগামী তিন থেকে চার দিনের মধ্যে পরিস্থিতির উন্নতি হতে পারে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

তবে গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক না হলে পরিস্থিতি আরও জটিল হওয়ার আশঙ্কা করছেন শিল্প উদ্যোক্তারা। তাঁদের মতে, দীর্ঘ সময় উৎপাদন বন্ধ থাকলে শুধু শিল্পপ্রতিষ্ঠান নয়, এর প্রভাব পড়বে শ্রমিকদের কর্মসংস্থান, রপ্তানি আয়, বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন এবং আন্তর্জাতিক বাজারে দেশের শিল্পপণ্যের গ্রহণযোগ্যতার ওপর। তাই দ্রুত গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক করার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।


জনমত ২৪

সম্পাদক ও প্রকাশক : রায়হান আহমেদ
কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত জনমত