চুনারুঘাটে আক্কাস আলীর জীবন এখন যন্ত্রণার অন্য নাম : পাননি কোনো সরকারি সহায়তা

রায়হান আহমেদ : নির্জন দিঘির পাড়ে আক্কাস মিয়ার ছোট্ট একটি কুটির। ছোট্ট এই কুটিরও আবার নড়বড়ে। টিনের ছাউনিও ছোট-বড় ছিদ্রে ভরপুর। এই বর্ষায় সামান্য বৃষ্টিতে ঘরের মেঝে কাঁদা হয়।
আবার অতি বৃষ্টিতে ঘরের ভেতরে পানি খেলা করে। সেচতে হয় বুক ভরা আর্তনাদ নিয়ে। কতো রাত যে সে নির্ঘুম পাড় করেছে তার হিসাব নেই। তার ঘরের আঙ্গিনায় নেই কোনো স্যানিটেশন ব্যবস্থা। খাবার পানি আনতে হয় পাশের বাড়ি থেকে। প্রচন্ড গরমের মাঝে অর্থের অভাবে ব্যবস্থা করতে পারেনি একটা বৈদ্যুতিক ফ্যান।

নিরাপদ ও স্বাস্থ্যসম্মত ঘরের পরিবেশ আজকাল আক্কাস আলীর কাছে রীতিমতো বিলাসিতা। যেখানে সে তিনবেলা পেট ভরে খেতে পারে না, সেখানে অন্যচিন্তা যেন কল্পকাহিনী। যে ঘরটিতে তার বসবাস সেটিও অন্যের জায়গায়।

দিন মজুরির আয়ে নুন আনতে পান্তা পুরালেও বর্তমানে করোনা ভাইরাস সে আয়টুকুও বন্ধ করে দিয়েছে। আক্কাস ও তার স্ত্রীর দুঃখগাঁথা জীবন এখন যন্ত্রণার অন্য নাম।

চুনারুঘাট উপজেলার উবাহাটা ইউনিয়নের শ্রীকুটা গ্রামে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বিস্তৃত দিঘির এককোণে আক্কাস আলীর বসতঘর। দিঘির পানি বাড়লে ঘরের আঙ্গিনা ডুবে যাবে এতে সন্দেহ নেই। সে নাকি দিঘির দেখাশোনা করে। বিনিময়ে যা পায়, তা যতসামান্য।

করোনা ভাইরাস আসার পর কোনো সরকারি সহায়তাও পায়নি সে। তার এই দুর্দশায় রাষ্ট্র ও সমাজপতিরা কি কোনো দায়িত্ব নেবেন না!! এভাবেই কি চলতে থাকবে আক্কাস আলীদের দুঃখভরা জীবন!!

সহায়তার হাত বাড়িয়ে দেয়ার জন্য সরকার ও বিত্তশালীদের প্রতি আহ্বান করা গেল।

     এই ক্যাটাগরীর আরো খবর

ge-418" />