1. info@jonomoth.com : admi2017 : জনমত নিউজ
  2. jonomoth24@gmail.com : Jonomoth .com : Jonomoth News .com

নবীগঞ্জ হাসপাতালে ডাক্তারদের রমরমা ব্যবসা : সেবা বঞ্চিত সাধারণ মানুষ

নবীগঞ্জ প্রতিনিধি: হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দায়িত্বরত ডাক্তারদের বিরুদ্ধে ১০০-১৫০ টাকা করে শত শত হত দরিদ্র রোগিদের কাছ থেকে হাজার হাজার টাকার অতিরিক্ত সুবিধা আদায়ের অভিযোগ পাওয়া গেছে।

যদিও সরকারি নিয়মানুযায়ী সরকারি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গুলোতে বিনা মূল্যে ডাক্তারদের চিকিৎসা দেয়ার কথা থাকলে ও ডাক্তাররা রোগী প্রতি ১০০-১৫০ টাকা করে প্রতি দিন উপজেলা শত শত হত দরিদ্র রোগীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত সুবিধা আদায়ের মধ্যমে হাজার হাজার টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে।

নবীগঞ্জ উপজেলার চিকিৎসার এক মাত্র প্রধান স্তর হচ্ছে নবীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে । এ উপজেলার প্রতিটি ইউনিয়ন থেকে অসংখ্য রোগী আসে সেবা নেয়ার জন্যে। রোগীরা সঠিকভাবে সেবা পাচ্ছে না উক্ত স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে। কোনো কোনো ডাক্তার কম মূল্যে ভাল চিকিৎসা প্রদান করা হবে এধরনের কথা বলে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের বাহিরে তাদের ব্যক্তিগত চেম্বার , ফার্মেসী বা বিভিন্ন ডায়াগনিষ্টিক সেন্টারে পাঠিয়ে দেন।

আবার হত দরিদ্র রোগীরা ডাক্তারদের কথা মত টাকা না দিলে বা ডাক্তারদের ব্যক্তিগত চেম্বার, ফার্মেসী বা ডায়াগনিষ্টিক সেন্টারে না গেলে রোগীদেরকে ঘন্টা পর ঘন্টা দাড়া করিয়ে শিষ্টার বা আয়াদের কাছে পাঠিয়ে দেন। আয়া/শিষ্টাররা দু একটা প্যরাসিটামল ও আয়রনের ওষুধ লিখে দিয়ে বলেন সামন থেকে ওষুধ নিয়ে যান। ফলে রোগীদেরকে ভোগান্তিতে পড়তে হয়। তাই বধ্য হয়ে তাদের কথামত টাকা দিয়ে ডাক্তারদের কাছ থেকে চিকিৎসা নিতে হয় ।

সোমবার সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় উপজেলার নোওয়াপাড়া গ্রামের শিল্পী বেগম সর্দি, কাসি ও জ্বর নিয়ে নবীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ডক্তার ফাতেমাতুজ জুহরার কাছে যান।

ডাক্তার ফাতেমাতুজ জুহরা শিল্পী বেগমকে ভিজিট দেওয়ার কথা বললে শিল্পী বেগম ডাক্তারকে ৭০ টাকা দিলে ডাক্তার ৭০ টাকা নিতে রাজি হয়নি এবং রোগীকে ঘন্টাখানিক দাড়া করিয়ে রাখেন, অন্য টাকা দেনেওয়ালা রোগীদেরকে চিকিৎসা দেন। কিছুক্ষণ অপেক্ষা করার পর শিল্পী বেগম ডাক্তার ফাতেমাতুজ জুহরাকে ১০০ টাকা দিয়ে চিকিৎসা নেন।

এভাবে কানাইপুর গ্রামের শাহেনা আক্তার, শিবপাশা গ্রামের শিল্পী আক্তার, তিমিরপুর গ্রামের রুমা আক্তার, মদনপুর গ্রামের জনী আক্তার, সোনাপুর গ্রামের লায়লা বেগম, ছোট শাকুয়া গ্রামের রুমেনা খাতুন, ফিরিজ পুর গ্রামের সাফিয়া বেগম, জৈন্তর গ্রামের খাদিজা খাতুন, হরিপুর গ্রামের জরিনা আক্তার সহ শত শত রোগীদের কাছ থেকে ১০০/১৫০ টাকা করে সুবিধা আদায়ের মাধ্যমে চিকিৎসা নেয়া হচ্ছে বলে রোগীরা উক্ত প্রতিবেদককে জানান।

প্রতিবেদক রোগীদেরকে প্রশ্ন করে বলেন, আপনারা টাকা দেন কেন? তখন তারা বলেন, ভাই টাকা না দিলে আমাদেরকে আয়া বা শিষ্টারের কাছে পাঠিয়ে দেন। তাই আমরা টাকা দিয়ে ভালোভাবে চিকিৎসা নিচ্ছি।

এ ব্যাপারে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ডাক্তার আব্দুস সামাদ সাহেবের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান উপজেলা সরকারি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ভিতরে ডাক্তারদের টাকা বা ভিজিট নেয়ার কোন নিয়ম নেই। যারা এ সুযোগ কাজে লাগাচ্ছে অভিযোগ পেলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

     এই ক্যাটাগরীর আরো খবর